শতবর্ষে ছয় দেশে বসছে ফুটবল বিশ্বকাপ ২০৩০
ক্রীড়া ডেস্ক:
ফুটবল বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদ্যাপনকে স্মরণীয় করে তুলতে ২০৩০ সালের আসর ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো পুরুষদের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে ছয়টি দেশ ও তিনটি মহাদেশজুড়ে। উদ্বোধনী পর্বের তিনটি ম্যাচ হবে দক্ষিণ আমেরিকায়, এরপর মূল প্রতিযোগিতা গড়াবে ইউরোপ ও আফ্রিকায়।
ফিফার প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, ২০৩০ বিশ্বকাপের শতবর্ষের বিশেষ ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ৮ ও ৯ জুন উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে। এরপর ১৩ ও ১৪ জুন মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেনে হবে মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও প্রথম দফার ম্যাচ। টুর্নামেন্টের ফাইনাল ২১ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও পূর্ণাঙ্গ সূচি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি ফিফা।
স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে আয়োজন করবে বিশ্বকাপের অধিকাংশ ম্যাচ। তবে ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে একটি করে উদ্বোধনী গ্রুপ ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ পাচ্ছে।
ফিফার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বীকৃতি হিসেবে একটি ম্যাচ পাবে উরুগুয়ে। সেই আসরের রানার্সআপ হওয়ায় আর্জেন্টিনাকেও একটি ম্যাচ দেওয়া হয়েছে। আর দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবলের সদর দপ্তর প্যারাগুয়েতে হওয়ায় দেশটিও একটি ম্যাচ আয়োজন করবে।
এ পর্যন্ত ছয়টি দেশ স্বাগতিক হিসেবে সরাসরি ২০৩০ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে। দেশগুলো হলো স্পেন, পর্তুগাল, মরক্কো, উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে। বাকি ৪২টি স্থান নির্ধারিত হবে বিভিন্ন মহাদেশীয় বাছাইপর্বের মাধ্যমে।
যেসব দল দক্ষিণ আমেরিকার শতবর্ষের তিনটি ম্যাচে অংশ নেবে, তাদের পরবর্তী গ্রুপ ম্যাচের আগে অতিরিক্ত ভ্রমণ ও বিশ্রামের সময় দেওয়া হবে। উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ের গ্রুপে থাকা অন্য দলগুলো ১৫ ও ১৬ জুন নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে। ওই গ্রুপগুলোর দ্বিতীয় দফার ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ২১ ও ২২ জুন।
২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের বিশ্বকাপ চালু হয়। ২০৩০ সালেও একই কাঠামো বজায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ ৬৪ দলে উন্নীত করার একটি প্রস্তাব সংস্থাটি পর্যালোচনা করবে।
সুইস গণমাধ্যম ব্লুউইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেন, ৪৮ দলের বিশ্বকাপকে তিনি "বড় সাফল্য" হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, এতে আরও বেশি দেশ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে এবং বিশ্বজুড়ে ফুটবলের বিকাশ ত্বরান্বিত হচ্ছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে তুলনামূলক ছোট ফুটবল শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতামূলক পারফরম্যান্সও এই ধারণাকে শক্তিশালী করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ফিফা বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু হয় ১৯৩০ সালে। ১৯২৪ ও ১৯২৮ সালের অলিম্পিক ফুটবলে উরুগুয়ের সাফল্যের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলের জন্য আলাদা টুর্নামেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় ফিফা। ১৯২৮ সালের মে মাসে উরুগুয়েকে প্রথম বিশ্বকাপের স্বাগতিক ঘোষণা করা হয়। স্বাধীনতার শতবর্ষ উদ্যাপন এবং টানা দুটি অলিম্পিক স্বর্ণজয়ের কারণে দেশটি এই আয়োজনের দায়িত্ব পায়।
১৯৩০ সালের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেয় ১৩টি দল। ফাইনালে মন্টেভিডিওর এস্তাদিও সেন্টেনারিও স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনাকে ৪-২ গোলে হারিয়ে প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় উরুগুয়ে।
বিশ্বকাপের পরিসর এরপর ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ১৯৩০ সালের ১৩ দলের টুর্নামেন্ট ১৯৯৮ সালে ৩২ দলে এবং ২০২৬ সালে ৪৮ দলে উন্নীত হয়। শতবর্ষের আসর হিসেবে ২০৩০ বিশ্বকাপ তাই কেবল একটি ফুটবল প্রতিযোগিতাই নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
২০৩০ বিশ্বকাপের পর পরবর্তী আসর অনুষ্ঠিত হবে ২০৩৪ সালে। একক স্বাগতিক হিসেবে সেই বিশ্বকাপ আয়োজন করবে সৌদি আরব। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে একমাত্র বিডদাতা দেশ হিসেবে সৌদি আরবকে স্বাগতিক ঘোষণা করে ফিফা। তবে ২০৩৪ বিশ্বকাপের তারিখ ও পূর্ণাঙ্গ সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।