ইরানি ড্রোন বিস্ফোরণে মার্কিন সেনা নিহত ইরাকে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরাকে ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত অংশ নিয়ন্ত্রিতভাবে ধ্বংস করার সময় এক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আরেক সেনা সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
রোববার দেওয়া সেন্টকমের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ১৮ জুলাই উত্তর ইরাকে এই ঘটনা ঘটে। নিহত ও আহত সেনার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
এই মৃত্যুর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ শুরুর পর নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭-তে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতে এর আগে শুক্রবার জর্ডানে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন এবং আরেকজন নিখোঁজ হন। সেন্টকম জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের কিছু মানবদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
এদিকে টানা অষ্টম রাতের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ‘শাহেদ’ নামে পরিচিত একমুখী হামলা চালাতে সক্ষম ড্রোনগুলোর প্রতিটির উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। তুলনামূলক কম খরচে এসব ড্রোন ব্যাপক সংখ্যায় মোতায়েন করা সম্ভব হলেও সেগুলো ভূপাতিত করতে ব্যবহৃত প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিটির দাম কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবু সব ক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে ধ্বংস করা সম্ভব হয় না।
এক মাস আগে হওয়া অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ নতুন করে তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
রোববার ইরানি গণমাধ্যম জানায়, দক্ষিণ ইরানের সিরিক শহরের কাছে এবং ইরাক সীমান্তসংলগ্ন শাদেগানের আশপাশে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে। পরে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আবাদানেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।
ইরানের মেহর বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, নির্মাণাধীন দারখোভিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নিন্দা জানিয়েছে দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থা। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, এ হামলার খবর তারা যাচাই করছে। সংস্থাটি বলেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণকাজ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
জবাবে ইরান কুয়েতের আল-আদিরি সামরিক শিবির ও আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে দাবি করা হয়েছে।
কুয়েত সরকার জানিয়েছে, দ্বিতীয় দিনের মতো একটি লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনায় হামলা হয়েছে। এতে সেখানে আগুন লাগে। সরকারের দাবি, এটি গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর সরাসরি হামলা।
এ ছাড়া বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের একটি হামলা প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে জর্ডানে সাইরেন বেজে ওঠার পর দেশটির সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইরানের তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদে জর্ডান ইরানের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।
চলমান এই সংঘাতে ইরান ও লেবাননে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কাও আরও জোরালো হয়েছে।
সূত্র:আলজাজিরা