সংবাদ শিরোনাম

বিশ্বকাপ ফুটবলের মহা রোমাঞ্চকর ফাইনালের অপেক্ষা

 প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৮ অপরাহ্ন   |   খেলাধুলা

বিশ্বকাপ ফুটবলের মহা রোমাঞ্চকর ফাইনালের অপেক্ষা

মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল

বিশ্বকাপ ফুটবল এখন এক ম্যাচের এসে দাড়িয়েছে। প্রথমবারের মতো ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। প্রথম দলটি বর্তমান ও পরেরটি ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন দল। এই ম্যাচকে ঘিরে এখন ফুটবল জ¦রে কাপছে গোটা দুনিয়া। তবে এটি শুধু ট্রফির লড়াই নয়, ফাইনালটি ঘিরে অপেক্ষা করছে একাধিক ঐতিহাসিক রেকর্ড। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলবে ইউরো চ্যাম্পিয়ন ও কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন দুই দল। একই সঙ্গে ১৯৯২ সালে ফিফা র‌্যাঙ্কিং চালুর পর প্রথমবার র‌্যাঙ্কিংয়ের এক ও দুই নম্বর দল মুখোমুখি হবে বিশ্বকাপ ফাইনালে। আর্জেন্টিনার সামনে রয়েছে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ। এর আগে শুধু ইতালি ও ব্রাজিল এই কীর্তি গড়তে পেরেছিল। ব্যক্তিগতভাবেও রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে লিওনেল মেসি। ফাইনালে খেললে ব্রাজিলের কাফুর পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে অংশ নেবেন তিনি। পাশাপাশি বিশ্বকাপে ১০০টি সুযোগ তৈরির মাইলফলক স্পর্শ করতে প্রয়োজন মাত্র একটি সুযোগ সৃষ্টি।

অন্যদিকে বিশ্বকাপে বদলি নেমে এক আসরে একাধিক গোল করা প্রথম আর্জেন্টাইন ফুটবলার হয়েছেন লাউতারো মার্তিনেজ। এবারের নকআউট পর্বে বদলি খেলোয়াড়দের করা চারটি ম্যাচজয়ী গোলও নতুন রেকর্ড হয়ে গেছে। বিশ্বকাপ ফাইনাল মানেই উত্তেজনা, ইতিহাস আর শিরোপার লড়াই। তবে এবার আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার মহারণে যোগ হয়েছে ভিন্ন এক গল্পও। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে রবিবার মুখোমুখি হবেন দুই কোচ- আর্জেন্টিনার লিওনেল স্কালোনি ও স্পেনের লুইস দে লা ফুয়েন্তে। যাদের সম্পর্ক কেবল প্রতিদ্বন্ধীর নয়, বরং গুরু ও শিষ্যের। আজ থেকে প্রায় নয় বছর আগে কোচিং জগতে নিজের পথচলা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন স্কালোনি। ২০১৭ সালে স্পেনের ফুটবল ফেডারেশনের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পেশাদার কোচিং লাইসেন্স কোর্সে অংশ নেন তিনি। সেই কোর্সে তাঁর অন্যতম শিক্ষক ছিলেন বর্তমান স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। সেই সময়ের ছাত্র ও শিক্ষক এখন বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে একে অপরের প্রতিপক্ষ।

আর তাই এবারের ফাইনালকে অনেকেই দেখছেন ‘গুরু বনাম শিষ্য’ লড়াই হিসেবে। স্কালোনির কোচিং যাত্রা শুরু হয় ২০১৮ সালে, যখন তিনি অন্তবর্তীকালীন দায়িত্বে আর্জেন্টিনা দলের হাল ধরেন। এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দলটিকে নিয়ে যান সাফল্যের শিখরে। ২০২১ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে আর্জেন্টিনার দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটান তিনি। এরপর ২০২২ সালে বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালে আরও একটি কোপা আমেরিকা জিতে নিজেকে সময়ের অন্যতম সফল কোচ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। অন্যদিকে দে লা ফুয়েন্তেও স্প্যানিশ ফুটবলের পুনর্জাগরণের কারিগর। ২০২২ বিশ্বকাপে হতাশাজনক বিদায়ের পর জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়ে তিনি নতুন প্রাণ ফিরিয়ে দেন স্পেনে। তাঁর নেতৃত্বে স্পেন ইউরোপের শিরোপা জিতেছে, নেশনস লিগের ফাইনাল খেলেছে এবং এবার পৌঁছে গেছে বিশ্বকাপের ফাইনালে। ফাইনালের আগে একে অপরের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার কথাও জানিয়েছেন দুই কোচ। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করার পর স্কালোনি বলেন, ’তিনি আমার পরামর্শদাতা ছিলেন। কোচিং সম্পর্কে আমি যা শিখেছি, তার অনেক কিছুই তাঁর কাছ থেকে। এখন বিশ্বকাপ ফাইনালে তাঁর বিপক্ষে দাঁড়ানো আমার জন্য বিশেষ অনুভূতি’।

স্পেনে দীর্ঘদিন বসবাস করা স্কালোনির সঙ্গে দেশটির সম্পর্কও গভীর। তাঁর পরিবার স্পেনে থাকে, স্ত্রীও স্প্যানিশ। তবে ফাইনালে আবেগের জায়গা নেই বলেই জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। স্কালোনির ভাষায়, ’আমি স্পেনে থাকি, আমার পরিবারও স্প্যানিশ। কিন্তু মাঠে আমি আর্জেন্টিনার কোচ। তাই অবশ্যই আমি তাঁকে হারানোর চেষ্টা করব। তবে তাঁর প্রতি আমার সম্মান কখনো কমবে না’। এদিকে নিজের সাবেক ছাত্রকে নিয়ে গর্বিত দে লা ফুয়েন্তেও। তিনি বলেন, ’স্কালোনি সব সময় শেখার জন্য আগ্রহী ছিল। পরিশ্রমী এবং ইতিবাচক মানসিকতার একজন মানুষ। সে আর্জেন্টিনার সঙ্গে সবকিছু জিতেছে। তার সাফল্যে আমি আনন্দিত। শিক্ষক হিসেবে নয়, একজন বন্ধু হিসেবেও আমি তাকে ভীষণ শ্রদ্ধা করি’। ফলে এবারের বিশ্বকাপ ফাইনাল শুধু দুই ফুটবল পরাশক্তির লড়াই নয়, এটি দুই প্রজন্মের দুই সফল কোচের আবেগঘন পুনর্মিলনও। তবে মাঠে নামার পর বন্ধুত্ব কিংবা শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক সবই চলে যাবে আড়ালে। তখন লক্ষ্য থাকবে একটাই- বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরা। এর আগে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। তবে শুধু ফাইনাল নিশ্চিত করাই নয়, সেমিফাইনালের জয়টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে একাধিক নতুন রেকর্ডও এনে দিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

Advertisement
Advertisement
Advertisement