বিশ্বকাপ সেমিতে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা মহারণ আবার
ক্রীড়া ডেস্ক:
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি আবার ফিরছে বিশ্বকাপের মঞ্চে। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। ইতিহাস, বিতর্ক, প্রতিশোধ আর অবিস্মরণীয় মুহূর্তে ভরা এই দ্বৈরথ ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।
দীর্ঘ ২১ বছর পর আবার মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। এবার লক্ষ্য একটাই—বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করা। সর্বশেষ ২০০৫ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে ইংল্যান্ড ৩-২ গোলে জিতেছিল। তখন ১৮ বছর বয়সী লিওনেল মেসি নিষেধাজ্ঞার কারণে খেলতে পারেননি। এবার বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসির দিকেই থাকবে সবার নজর।
দুই দেশের ফুটবল সম্পর্কের ইতিহাস অনেক পুরোনো। ১৮৬৭ সালে আর্জেন্টিনায় প্রথম নথিভুক্ত ফুটবল ম্যাচ খেলেছিলেন ব্রিটিশ রেলকর্মীরা। পরে ১৯৫১ সালে ওয়েম্বলিতে প্রথম পূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ইংল্যান্ড ২-১ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারায়। তবে সময়ের সঙ্গে বন্ধুত্বের জায়গা নেয় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
এই লড়াইয়ের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল। মেক্সিকোয় সেই ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনা প্রথমে বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল করেন। এরপর মাত্র ১১ সেকেন্ডে পাঁচজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে করেন ইতিহাসের বিখ্যাত ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’। আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপও জেতে।
১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে দুই দল আবার মুখোমুখি হলে নাটকীয় ম্যাচটি ২-২ সমতায় শেষ হয়। পরে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে দিয়েগো সিমেওনের সঙ্গে ঘটনার জেরে লাল কার্ড দেখেছিলেন ডেভিড বেকহ্যাম, যা সে সময় বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
তবে ২০০২ সালের বিশ্বকাপে প্রতিশোধ নেয় ইংল্যান্ড। জাপানের সাপ্পোরোয় গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মাইকেল ওয়েনের আদায় করা পেনাল্টি থেকে একমাত্র গোলটি করেন ডেভিড বেকহ্যাম। সেই জয়ে নকআউট পর্বে ওঠে ইংল্যান্ড, আর আর্জেন্টিনা বিদায় নেয় গ্রুপ পর্ব থেকেই।
এবার আবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। ইতিহাস বলছে, এই লড়াই শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়—এটি আবেগ, গৌরব, প্রতিশোধ এবং বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা প্রতিদ্বন্দ্বিতার আরেকটি নতুন অধ্যায়।