মেসিকে বাঁচাতে ভিএআর? আর্জেন্টিনার জয়ে উঠল বৈধতার প্রশ্ন
ক্রীড়া ডেস্ক:
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ম্যাচের একেবারে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভিএআরের (VAR) সিদ্ধান্তে মিসরের একটি গোল বাতিল হওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই ম্যাচের বৈধতা ও রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কোচ, বিশ্লেষক এবং ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মিসর। কিন্তু অনেকটা পরে ভিএআরের হস্তক্ষেপে তাদের দ্বিতীয় গোলটি বাতিল করা হয়। এরপর ম্যাচে ফিরে আসে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে।
ম্যাচ শেষে মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান অভিযোগ করেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং বিশেষ করে লিওনেল মেসিকে টুর্নামেন্টে রাখতেই ম্যাচ কর্মকর্তাদের ওপর চাপ ছিল। তিনি বলেন, ফুটবলে অনেক সময় মাঠের বাইরের বিষয়ও প্রভাব ফেলে এবং আর্জেন্টিনা সব পর্যায়ে সমর্থন পেয়েছে।
এদিকে ক্রীড়া বিশেষজ্ঞ সাইমন চ্যাডউইক বলেন, ম্যাচের ভিএআর সিদ্ধান্ত ছিল অস্বাভাবিক এবং রেফারিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাব ছিল। তার মতে, যে ফাউলের কারণে মিসরের গোল বাতিল করা হয়েছে, একই ধরনের একটি ঘটনা আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের আগে ঘটলেও সেখানে ভিএআর হস্তক্ষেপ করেনি। তবে তিনি ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ সমর্থন করেননি। তার ভাষায়, মেসি নিঃসন্দেহে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ, কিন্তু সেটিই ম্যাচ কারচুপির প্রমাণ নয়।
ফুটবল বিশ্লেষক আলি এল গারনিও মনে করেন, ভিএআর ও রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্ত ‘৫০-৫০’ ধরনের ছিল এবং সবকটিই আর্জেন্টিনার পক্ষে গেছে। তার প্রশ্ন, একই ঘটনা যদি আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ঘটত, তাহলে কি ভিএআর একইভাবে হস্তক্ষেপ করত?
এর আগে বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়েও ফিফা সমালোচনার মুখে পড়ে। সেই বিতর্কের পর আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের ঘটনাও বিশ্বকাপের স্বচ্ছতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।