রাশিয়ায় জ্বালানি সংকট, যুদ্ধের পথে কি বদল আনবেন পুতিন?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতেই এখন পেট্রোলের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার সারি। বিশ্বের অন্যতম বড় তেল উৎপাদনকারী দেশটি জ্বালানি সংকটে পড়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে, আর প্রশ্ন উঠছে—এই চাপ কি ইউক্রেন যুদ্ধের কৌশল বদলাতে বাধ্য করবে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে?
মস্কোর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দেখা যাচ্ছে গাড়ি ও ট্রাকের দীর্ঘ লাইন। অনেক জায়গায় জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় স্টেশন বন্ধও রাখতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও প্রকাশ্যে রুশ সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে অনেকেই দ্বিধায় রয়েছেন।
রাশিয়ার নাগরিকরা বলছেন, দেশটি এত তেল উৎপাদন করেও জ্বালানির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে—এটি অস্বাভাবিক। কেউ কেউ এর জন্য ইউক্রেনের হামলাকে দায়ী করছেন, আবার কেউ বলছেন প্রস্তুতির ঘাটতিও বড় কারণ।
ইউক্রেনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাশিয়ার বেশ কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ ও তথ্য প্রবাহের বাধা। ফলে যুদ্ধের প্রভাব এখন সাধারণ মানুষের জীবনেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
তবে এই সংকট কি পুতিনকে যুদ্ধের পথ থেকে সরাবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তা নিশ্চিত নয়। নিউইয়র্কের দ্য নিউ স্কুল-এর অধ্যাপক নিনা খ্রুশ্চোভা মনে করেন, চাপ বাড়লে পুতিন বরং আরও কঠোর ও আগ্রাসী অবস্থান নিতে পারেন।
রুশ প্রেসিডেন্ট অবশ্য জ্বালানি সংকট নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, ইউক্রেনের হামলা সমস্যা তৈরি করছে, তবে দাবি করেছেন পরিস্থিতি “গুরুতর নয়”। এরই মধ্যে সরকার জ্বালানি আমদানি বাড়ানো, দাম নিয়ন্ত্রণে ভর্তুকি দেওয়া এবং নিম্নমানের জ্বালানি বিক্রির অনুমতি দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।
লেভাদা কেন্দ্র-এর সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, পুতিনের জনপ্রিয়তা কমে প্রায় ৭৪ শতাংশে নেমেছে। দেশ সঠিক পথে যাচ্ছে বলে মনে করেন ৫২ শতাংশ রুশ নাগরিক, যা মে মাসে ছিল ৬১ শতাংশ। Gallup-এর জরিপেও দেখা গেছে, গত ২০ বছরের মধ্যে রাশিয়ার অর্থনীতি নিয়ে মানুষের হতাশা সবচেয়ে বেশি।
অর্থনিতিক চাপ বাড়লেও এখন পর্যন্ত পুতিন যুদ্ধের অবস্থান বদলানোর কোনো ইঙ্গিত দেননি। বরং তিনি সেনা কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে আরও অঞ্চল দখলের লক্ষ্য চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। ফলে পশ্চিমা দেশগুলোর সামনে বড় প্রশ্ন—রাশিয়ার ভেতরের চাপ কি শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের গতিপথ বদলাতে পারবে, নাকি পুতিন আরও কঠোর পথে এগোবেন?
সূত্র: বিবিসি