যুদ্ধের চাপে রাশিয়ায় দেউলিয়া পাঁচ লাখ মানুষ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘ প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়ছে রাশিয়ার সাধারণ মানুষের জীবনে। এক বছরে পাঁচ লাখের বেশি রুশ নাগরিক দেউলিয়া হয়েছেন। একই সঙ্গে ঋণের চাপ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশটির ব্যাংকিং খাত নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থার একটি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে রাশিয়া সরকার ব্যাংকগুলোর ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে অনেক ঋণগ্রহীতা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছেন এবং গত বছর প্রায় ৫ লাখ মানুষ আনুষ্ঠানিকভাবে দেউলিয়া ঘোষণা করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে রাশিয়ার করপোরেট ঋণের প্রায় ১০ শতাংশ সন্দেহজনক বা ঝুঁকিপূর্ণ। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সহায়তায় চালু হওয়া ঋণ কর্মসূচির কারণে ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি রুশ নাগরিক একসঙ্গে তিনটি বা তার বেশি ব্যাংক ঋণ নিয়েছেন। এতে ভবিষ্যতে ব্যাংকিং খাতে চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও এখনই বড় ধরনের ব্যাংকিং সংকটের আশঙ্কা কম। লন্ডনভিত্তিক থিংক ট্যাংক চ্যাথাম হাউসের সহযোগী গবেষক ভ্লাদিস্লাভ ইনোজেমৎসেভ বলেন, প্রতিরক্ষা খাতের বড় অংশের ঋণের পেছনে রাষ্ট্রের সমর্থন রয়েছে। তাই প্রয়োজন হলে সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর তারল্য নিশ্চিত করবে। ব্যক্তিগত ঋণে ক্ষতি হলেও সে জন্য ব্যাংকগুলো আগে থেকেই কিছু সংরক্ষণ রেখেছে।
এদিকে রাশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ১.৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৪ শতাংশ করেছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, যুদ্ধ ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার খরচ বাড়ায় অর্থনীতির গতি কমে এসেছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে ৬০ শতাংশ রুশ নাগরিক জানিয়েছেন, তাদের দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের কারণে সামরিক ব্যয় দ্রুত বাড়লেও তা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক নয়। বিনিয়োগ কমে যাওয়া, মেধাপাচার এবং অর্থনৈতিক চাপ রাশিয়ার ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিকে আরও কঠিন করে তুলছে। তাদের ধারণা, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাশিয়ার অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা খুবই সীমিত।
সূত্র: আলজাজিরা