ভূমিকম্পে কাঁপছে ভেনেজুয়েলা, ক্ষমতায় টিকে যাচ্ছেন রদ্রিগেজ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলা এখন শুধু মানবিক সংকট নয়, বড় রাজনৈতিক পরীক্ষার মুখেও পড়েছে। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, এই দুর্যোগই কি তাকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে?
গত ২৪ জুন পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়। সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৬৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন ১৬ হাজারের বেশি মানুষ এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১৭ হাজারেরও বেশি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দুর্যোগ রদ্রিগেজ সরকারের দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। অনেক মানুষ অভিযোগ করছেন, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম যথেষ্ট দ্রুত হয়নি। তবে রদ্রিগেজ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ৪ হাজার উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল, পরে সেই সংখ্যা বেড়ে ১৯ হাজারে পৌঁছায়।
ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষক ইমদাত ওনার বলেন, এটি রদ্রিগেজের নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। তার মতে, স্বৈরশাসনধারী সরকারগুলোতে বড় সংকট অনেক সময় ক্ষমতাসীনদের দুর্বল না করে বরং ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত করার সুযোগ তৈরি করে।
এদিকে, ভূমিকম্পের আগে ভেনেজুয়েলার সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে সম্ভাব্য রাজনৈতিক আলোচনার ইঙ্গিত দেখা গিয়েছিল। কিন্তু নতুন সংকট সেই প্রক্রিয়াকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। বিরোধী নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো ত্রাণ কাজে অংশ নিতে দেশে ফিরতে চাইলেও তা সম্ভব হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রও আপাতত রাজনৈতিক পরিবর্তনের চেয়ে স্থিতিশীলতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ওয়াশিংটন রদ্রিগেজ সরকারের সঙ্গে সীমিত সহযোগিতা চালিয়ে যেতে পারে। ফলে ভেনেজুয়েলায় দ্রুত কোনো বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা এখনো দূরে বলেই মনে হচ্ছে।
ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত দেশটির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো উদ্ধার, পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক ঘুরে দাঁড়ানো। কারণ জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির হিসাব অনুযায়ী, এই দুর্যোগে দেশের অর্থনীতিতে প্রায় ৬ শতাংশ জিডিপির সমান ক্ষতি হয়েছে।
সূত্র: সিএনএন