প্ল্যাটনার বিতর্কে স্টিফেন কিংয়ের পোস্ট মুছে ফেলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে মার্কিন রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের মধ্যে পড়েছেন লেখক স্টিফেন কিং। ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী গ্রাহাম প্ল্যাটনারকে নিয়ে করা একটি পোস্ট মুছে দিয়ে পরে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তিনি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার প্ল্যাটনারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রকাশের পর কিং প্রথমে লিখেছিলেন, তিনি আশা করেন প্ল্যাটনার যেন নির্বাচনী দৌড় থেকে সরে না দাঁড়ান। পরে ওই পোস্ট ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে তিনি তা সরিয়ে দেন।
মেইনের বাসিন্দা ৪১ বছর বয়সী জেনি রেসিকট অভিযোগ করেছেন, ২০২১ সালে প্ল্যাটনার তার বাড়িতে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করে এবং তিনি কয়েকবার থামতে বলার পরও জোর করে যৌন সম্পর্ক করেন। রেসিকট আরও দাবি করেন, ঘটনার সময় প্ল্যাটনার প্রায় অচেতন অবস্থায় মাতাল ছিলেন। তবে প্ল্যাটনার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
পোস্ট মুছে ফেলার আগে কিং লিখেছিলেন, “গ্রাহাম প্ল্যাটনার হয়তো সরে দাঁড়াতে পারেন। (আমি আশা করি তিনি তা করবেন না, তবে...)” এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন। তার আরেকটি পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, যদি সবাই রাজনীতিবিদদের অতীত জানত, তাহলে কংগ্রেসের অনেক আসন খালি হয়ে যেত।
কিংয়ের এসব মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। অনেকে অভিযোগ করেন, তিনি ধর্ষণের অভিযোগকে হালকা করে দেখছেন। পরে কিং স্পষ্ট করে বলেন, তিনি প্ল্যাটনারকে সমর্থন করছেন না। তিনি লেখেন, “যদি সে ধর্ষণ করে থাকে, তাহলে তার সরে দাঁড়ানো উচিত।”
এদিকে প্ল্যাটনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশের পর ডেমোক্র্যাট দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা তাকে প্রচারণা থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সও।
মেইনের বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সকে হারানোর লক্ষ্যে ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনী লড়াই চালাচ্ছে। প্ল্যাটনার আগামী ১৩ জুলাই বিকেল ৫টার আগে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলে মেইন ডেমোক্র্যাটিক পার্টি নতুন প্রার্থী বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে। তবে এখন পর্যন্ত প্ল্যাটনার শুধু বলেছেন, তিনি “আগামীর পথ নিয়ে ভাবার জন্য সময় নিচ্ছেন”; সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেননি।
সূত্র:ফক্স নিউজ চ্যানেল