ফ্রান্স-মরক্কো লড়াইয়ে বিশ্বকাপের মহারণ
ক্রীড়া ডেস্ক:
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুই পরিচিত প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রান্স ও মরক্কো। ২০২২ সালের সেমিফাইনালের স্মৃতি পেছনে ফেলে এবার ইতিহাস বদলাতে চায় আফ্রিকার শক্তিশালী দল মরক্কো, আর তৃতীয় শিরোপার স্বপ্নে এগোচ্ছে বর্তমান ফুটবল পরাশক্তি ফ্রান্স।
বৃহস্পতিবার বোস্টনে অনুষ্ঠিত হবে জমজমাট এই কোয়ার্টার ফাইনাল। জয়ী দল সেমিফাইনালে খেলবে স্পেন বা বেলজিয়ামের বিপক্ষে, আর পরাজিত দলের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়ে যাবে।
ফ্রান্স এবার দুর্দান্ত ছন্দে আছে। পাঁচ ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেয়েছে দিদিয়ের দেশমের দল। গ্রুপ পর্বে শীর্ষে থেকে নকআউট পর্বে সুইডেন ও প্যারাগুয়েকে হারিয়ে শেষ আটে উঠেছে তারা। পুরো টুর্নামেন্টে ১৩ গোল করেছে ফ্রান্স, পাশাপাশি রক্ষণেও দেখিয়েছে শক্তিমত্তা।
দলের সবচেয়ে বড় ভরসা কিলিয়ান এমবাপ্পে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করে তিনি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা সাতটিতে উন্নীত করেছেন। এই গোল তাকে লিওনেল মেসি ও আর্লিং হলান্ডের সঙ্গে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে রেখেছে। বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোল এখন ১৯।
এমবাপ্পের সঙ্গে আক্রমণে ফ্রান্সের শক্তি বাড়াচ্ছেন ওসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে ও ব্র্যাডলি বারকোলা। তরুণ দেসিরে দুয়েও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের জন্য সৃজনশীলতা যোগ করছেন।
অন্যদিকে মরক্কো আবারও প্রমাণ করেছে, ২০২২ সালের দুর্দান্ত সাফল্য কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত থেকে শেষ আটে এসেছে আটলাস লায়ন্সরা। গ্রুপ পর্বে দ্বিতীয় হওয়ার পর নেদারল্যান্ডসকে পেনাল্টি শুটআউটে হারিয়ে এবং কানাডাকে সহজে পরাজিত করে তারা কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে।
কানাডার বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত খেলেছে মরক্কো। আজেদ্দিন উনাহি জোড়া গোল করেন, আর বদলি খেলোয়াড় সোফিয়ান রহিমি যোগ করা সময়ে গোল করে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন।
তবে ইতিহাস ফ্রান্সের পক্ষে। দুই দলের আগের ছয় দেখায় মরক্কো কখনো ফ্রান্সকে হারাতে পারেনি। চার ম্যাচে হেরেছে এবং দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ২০২২ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালেও ফ্রান্স ২-০ গোলে জয় পেয়েছিল।
মরক্কোর সবচেয়ে বড় আক্রমণভরসা ব্রাহিম দিয়াজ। কানাডার বিপক্ষে দুটি অ্যাসিস্ট করে তিনি বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে চারটি ক্যারিয়ার অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়েছেন।
ফ্রান্সের জন্য এই ম্যাচটি কোচ দিদিয়ের দেশমের জন্যও বিশেষ। বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে এটি হবে তার ২৫তম ম্যাচ, যা জার্মান কিংবদন্তি কোচ হেলমুট শনের রেকর্ডের সমান। জয় পেলে বিশ্বকাপে তার জয়ের সংখ্যা দাঁড়াবে ২০টি।
চোট সমস্যাও দুই দলের চিন্তার কারণ। ফ্রান্সের অরেলিয়েন চুয়ামেনি এখনও অনিশ্চিত, আর মরক্কোর ইসমাইল সাইবারি ও চাদি রিয়াদকে নিয়েও রয়েছে শঙ্কা।
বিশ্বকাপের শেষ আটে তাই ফ্রান্সের শিরোপার স্বপ্ন বনাম মরক্কোর নতুন ইতিহাস গড়ার লড়াই—দর্শকদের জন্য অপেক্ষা করছে এক দুর্দান্ত ফুটবল যুদ্ধ।