কোয়াটার ফাইনালে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড
ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিশ^কাপ ফুটবলে ঘটনাবহুল দিন কাটল মঙ্গলবার মধ্যরাত ও বুধবার ভোর রাতে। এই দুটি ম্যাচ জিতে শেস আটে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড। যার মধ্যে লিওনেল মেসির দল ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ ১৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের ঝড়ে ৩-২ গোলে মিশরকে পরাজিত করে। অন্যদিকে ফেবারিট হিসেবে সেভাবে না থেকেও কলম্বিয়াকে ৪-৩ গোলে টাইব্রেকারে পরাজিত করেছে সুইসরা। এখন জয়ী দুই দল শেষ আটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড। মিশরের বিপক্ষে ম্যাচটি ছির নানা নাটকীয়তায় ভরা। সেখানে অবিশ্বাস্য কামব্যাকের গল্পে মিশরের হৃদয় ভেঙে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌছে গেল আর্জেন্টিনা। বলা যায় স্নায়ুক্ষয়ী এক লড়াই! ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে জেতা। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এই অবিশ্বাস্য এক কামব্যাকের গল্পটা লিখল। আর তাতেই দলটা চলে গেছে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখল। ম্যাচের শুরু থেকেই সমস্যায় পড়ে আর্জেন্টিনা। প্রথম পাঁচ মিনিটে পজিশনের ভুলে দুইবার বল হারায় দলটি। এরপর ১৪ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় মিশর। ফ্রি কিক থেকে মাথা ছুঁইয়ে গোলটি করেন ইয়াসির ইব্রাহিম। পাঁচ মিনিট পর পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। বক্সে ফাউলের শিকার হন নিকলাস তালিয়ফিকো। স্পট কিক নেন মেসি নিজেই। কিন্তু মিশরের গোলরক্ষক মোহাম্মদ শোবেইর দারুণভাবে সেই শট ঠেকিয়ে দেন।
চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির টানা দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস। এরপরও একাধিক সুযোগ তৈরি করে আর্জেন্টিনা। তবে প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়ান শোবেইর। ম্যাক আলিস্টারের কাছের শট থেকে দুর্দান্ত এক সেভ করেন তিনি। এরপর আলভারেজের শটও ঠেকিয়ে দেন। মেসির একটি ফ্রি কিক গিয়ে লাগে বারপোস্টে। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ গোলে মিশরের এগিয়ে থাকা অবস্থায়। দ্বিতীয়ার্ধেও দাপট দেখায় মিশর। ৫৮ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান মুস্তাফা জিকো। তবে কিছুক্ষণ পরই ভিএআর যাচাইয়ের পর সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। বিল্ড আপের সময় লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে ফাউল করার কারণে গোলটি বাতিল করা হয়। তবে বাতিল হওয়া গোলের পরও থেমে থাকেননি জিকো। ৬৭ মিনিটে ট্রানজিশন থেকে আবারও গোল করেন তিনি। এতে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। মনে হচ্ছিল, বিদায়ের দুয়ারে চলে গেছে দলটি। তবে ম্যাচের শেষ দিকে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা। ৭৯ মিনিটে মেসির ক্রস থেকে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। এই শটেও হাত ছুঁয়েছিলেন শোবেইর, তবে বল ঠেকাতে পারেননি তিনি। এই গোলে ফের ম্যাচে ফেরে আর্জেন্টিনা।
এরপর ৮৩ মিনিটের মাথায় আসে মেসির অবিশ্বাস্য এক গোল। বক্সের ভেতর জটলার মধ্যে থেকে নেওয়া তার শট প্রথমে শোবেইরের হাতে লাগে। এরপর বল গিয়ে জড়ায় জালে। সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। এরপর যোগ করা সময়ে আসে জয়সূচক গোল। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে লাউতারো মার্তিনেজের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। এই গোলেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা এবং সেই ব্যবধান ধরে রেখেই ম্যাচ শেষ করে দলটি। এদিকে টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়ে ৭২ বছর পর কোয়ার্টার ফাইনালে যোগ্যতা লাভ করে সুইজারল্যান্ড। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে গোলশূন্য থাকে দুই দল। এরপর খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। প্রথমে শট নেয় কলম্বিয়া। শুরুতে দুই দলই নিজেদের শট থেকে গোল করে। তবে এক পর্যায়ে সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন কলম্বিয়ার এক শট। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের হয়ে একটি শট বাইরে মারেন মানুয়েল আকানজি। শেষ পর্যন্ত শুটআউটে ৪-৩ গোলে জিতে যায় সুইজারল্যান্ড। জয়সূচক শটটি নেন রুবেন ভার্গাস।
কলম্বিয়ার গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাসকে ভুল দিকে পাঠিয়ে গোল করেন তিনি। এর আগে ১৯৫৪ বিশ্বকাপেই সর্বশেষ কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল সুইজারল্যান্ড। দীর্ঘ ৭২ বছর পর আবার এই মাইলফলক ছুঁল দলটি। উল্লেখ্য, পেনাল্টি শুটআউটে আগেও তেতো অভিজ্ঞতা আছে দুই দলের। ২০০৬ বিশ্বকাপে ইউক্রেনের কাছে ৩-০ গোলে শুটআউটে হেরেছিল সুইজারল্যান্ড। সেটাই ছিল তাদের একমাত্র আগের বিশ্বকাপ শুটআউট। অন্যদিকে ২০১৮ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের কাছে শুটআউটে হেরেছিল কলম্বিয়া। এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ এখন আর্জেন্টিনা। শনিবার রাতে কানসাস সিটিতে হবে এই ম্যাচ।