রোনালদো জ্বরে টরন্টো, বিশ্বকাপে আজ পর্তুগাল ক্রোয়েশিয়া মহারণ
ক্রীড়া ডেস্ক:
কানাডার টরন্টো শহর যেন আবারও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে উন্মাদনায় ভেসে গেছে। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ৩২ পর্বে আজ পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে বুধবার শহরের বিভিন্ন সড়ক, হোটেলের সামনে এবং দলের অনুশীলন ভেন্যুর বাইরে শত শত সমর্থক ভিড় করেন শুধু একনজর রোনালদোকে দেখার আশায়।
২০০৯ সালে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে টরন্টো সফরের পর এই প্রথম শহরটিতে ফিরলেন পর্তুগিজ তারকা। প্রায় ১৭ বছর পরও তাকে ঘিরে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে তেমন কোনো ভাটা পড়েনি। বিমানবন্দর থেকে দলের বাস হোটেলের উদ্দেশে রওনা দিলে সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ভক্তরা তাকে স্বাগত জানান। পরে সেন্টেনিয়াল পার্কে পর্তুগালের অনুশীলনের সময়ও অসংখ্য সমর্থক মাঠের বাইরে অবস্থান নেন।
বিশ্বকাপে এটি ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর শেষ আসর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পর্তুগাল আজ ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে গেলে এটাই হতে পারে তার শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। সেই সম্ভাবনাও সমর্থকদের আবেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
টরন্টোতে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচটির টিকিটের উচ্চ মূল্যও আলোচনায় এসেছে। পুনর্বিক্রয় বাজারে টিকিটের গড় দাম কয়েক হাজার কানাডীয় ডলারে পৌঁছেছে, আর কিছু টিকিটের মূল্য ৩০ হাজার কানাডীয় ডলার পর্যন্ত উঠেছে বলে জানা গেছে। ফলে বহু সমর্থকের পক্ষে মাঠে বসে ম্যাচ দেখা সম্ভব হয়নি। অনেকেই শহরের বিভিন্ন ক্রীড়া বার, বড় পর্দার প্রদর্শনী এবং ফ্যান জোনে খেলা দেখার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
টরন্টোতে দীর্ঘদিন ধরে বড় পর্তুগিজ অভিবাসী সম্প্রদায় বসবাস করছে। ১৯৫০-এর দশক থেকে কানাডায় আসা এসব অভিবাসীর কাছে ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, বরং সাংস্কৃতিক পরিচয় ও পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ। তাই নিজ শহরে পর্তুগালের বিশ্বকাপ ম্যাচ তাদের কাছে বিশেষ আবেগের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সমর্থকদের অনেকেই মনে করছেন, এবারের বিশ্বকাপে পর্তুগাল এখনো নিজেদের সেরাটা খেলতে পারেনি। তবু তারা ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দলের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। একই সঙ্গে বয়সের ভার সত্ত্বেও রোনালদোই তাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে রয়ে গেছেন।