জার্মানিতে ঐতিহাসিক সংস্কার, করছাড়ে অর্থনীতি চাঙার বড় উদ্যোগ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মেরৎসের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার অর্থনীতিকে গতিশীল করা, কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং ক্রমবর্ধমান কট্টর ডানপন্থার রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলায় ব্যাপক কর, শ্রমবাজার ও পেনশন সংস্কার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার ঘোষিত ‘প্রোগ্রাম ফর রিভাইভাল জার্মানিতে ঐতিহাসিক সংস্কার, করছাড়ে অর্থনীতি চাঙার বড় উদ্যোগ এমপ্লয়মেন্ট’-এর আওতায় মোট ৩৪টি সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে দেশটির অন্যতম বড় সংস্কার কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংস্কার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১১ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) আয়কর ছাড় কার্যকর হবে। এই কর ছাড়ের অর্থের বড় অংশ উচ্চ আয়ের মানুষের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত কর পুনর্গঠনের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে। অর্থমন্ত্রী ও উপ-চ্যান্সেলর লার্স ক্লিংবাইল বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আয়কারীরা করের আরও বড় অংশ বহন করবেন, যা দেশের অগ্রগতির জন্য ন্যায়সঙ্গত।
মেরৎস বলেন, সরকার দেশের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত অর্থনৈতিক দুর্বলতা কাটিয়ে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তাঁর ভাষায়, উচ্চ জ্বালানি ব্যয়, চীনের তীব্র প্রতিযোগিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কচাপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতাও হ্রাস করা হবে।
শ্রমবাজারে পরিবর্তনের অংশ হিসেবে করোনাভাইরাস মহামারির সময় চালু হওয়া টেলিফোনে চিকিৎসকের সনদ নিয়ে অসুস্থতাজনিত ছুটি নেওয়ার ব্যবস্থা বাতিল করা হচ্ছে। নতুন নিয়মে অসুস্থতার প্রথম দিন থেকেই চিকিৎসকের সনদ জমা দিতে হবে, যেখানে বর্তমানে তা চতুর্থ দিন থেকে প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি কোনো কারণ ছাড়াই নির্দিষ্ট মেয়াদের চাকরির চুক্তির সর্বোচ্চ সময়সীমা ২৪ মাস থেকে বাড়িয়ে ৪৮ মাস করা হবে এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন ধরনের বাধ্যতামূলক প্রতিবেদন দেওয়ার নিয়মও শিথিল করা হবে।
পেনশন ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও সরকার নিযুক্ত কমিশনের ৩৩টি সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ-সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০৩১ সালের পর গড় আয়ু বৃদ্ধির সঙ্গে অবসরের বয়স সমন্বয় করা হবে, যা বর্তমানে নির্ধারিত ৬৭ বছরের সীমা অতিক্রম করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি ২০৯০-এর দশকে ৭০ বছর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি জনমত জরিপে কট্টর ডানপন্থী অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) দলের কাছে পিছিয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে মেরৎসের সেন্টার-রাইট সিডিইউ এবং তাদের জোটসঙ্গী এসপিডির ওপর সংস্কার বাস্তবায়নের চাপ বেড়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা সরকারের নীতিনির্ধারণী সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ এবং বছরের দ্বিতীয়ার্ধে জার্মান অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে ঘোষিত সংস্কার কার্যকর করতে হলে জার্মান পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ বুন্ডেসটাগের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এছাড়া আয়কর সংস্কারের জন্য উচ্চকক্ষ বুন্ডেসরাটেরও সম্মতি লাগবে, যেখানে সম্ভাব্য রাজস্ব ঘাটতি নিয়ে ইতোমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সূত্র:আলজাজিরা