কিয়েভে ভয়াবহ রুশ হামলায় ১৮ নিহত, জেলেনস্কির কঠোর যুদ্ধবার্তা পুনর্ব্যক্ত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৯০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের জরুরি সেবা সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিনের মধ্যে হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। হামলায় একটি বহুতল আবাসিক ভবনের ছয়টি তলা আংশিক ধসে পড়ে এবং রাজধানীর অন্তত ৩৩টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, রাশিয়া একটি "বৃহৎ হামলার" প্রস্তুতি নিয়েছে। আয়ারল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে তিনি দেশে ফেরার ঘোষণা দেন এবং নাগরিকদের বিমান হামলার সতর্কবার্তা মেনে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানান।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত রাশিয়া ৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৯৬টি ড্রোন নিক্ষেপ করে। তাদের দাবি, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৪৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪৭৬টি ড্রোন ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হলেও ২৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২টি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। হামলায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সম্মিলিত হামলায় শহরের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজধানীর সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো বলেন, আহতদের মধ্যে অন্তত দুই শিশু রয়েছে এবং শহরের তিন ডজনের বেশি স্থানে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘপাল্লার উচ্চ-নির্ভুল অস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে "বৃহৎ হামলা" চালিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইউক্রেনের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো এবং কয়েকটি সামরিক বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে, যা রাশিয়ার বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর ইউক্রেনের হামলার জবাব।
পরে ক্রেমলিন জানায়, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাতভর পরিচালিত হামলা সম্পর্কে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার কাছ থেকে ব্রিফিং নিয়েছেন। একই সঙ্গে মস্কো জানিয়েছে, নিজেদের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ইউক্রেনের ওপর চাপ আরও বাড়ানো হবে।
জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধে কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তার ভাষায়, বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমে আলোচনার প্রস্তুতির বার্তা দেওয়া হলেও মস্কো যুদ্ধ অবসানের পরিবর্তে আরও আগ্রাসনের পথ বেছে নিয়েছে।
এদিকে হামলার সময় প্রতিবেশী পোল্যান্ড সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে যুদ্ধবিমান উড়াল দিলেও পরে জানায়, তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা যত বাড়বে, মস্কোর ওপর আন্তর্জাতিক চাপও তত বাড়ানো উচিত।
অন্যদিকে রাশিয়াও জানিয়েছে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় নিঝনি নভগোরদ অঞ্চলে একজন নিহত, চারজন আহত এবং একটি শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে একটি ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং একজন আহত হওয়ার খবর দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সূত্র: আলজাজিরা