সুইডেনে কঠোর অভিবাসন নীতি, অনিশ্চিত হাজারো জীবন
সুইডেন এক সময় ইউরোপের অন্যতম উদার অভিবাসন গ্রহণকারী দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু গত এক দশকে দেশটির অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে, যা এখন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। নতুন আইন ও নীতিমালার কারণে দেশটিতে বসবাসরত অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের জীবন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ব্রাজিলের নাগরিক রাকেল ভিভেইরা সুইডেনের মালমোতে তার সঙ্গীর সঙ্গে স্থায়ীভাবে বসবাসের অপেক্ষায় ছিলেন। দীর্ঘদিন কর প্রদান, ব্যবসা পরিচালনা এবং ভাষা শেখার পরও হঠাৎ করেই তাকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রশাসনিক জটিলতা ও পূর্ববর্তী সম্পর্ক পরিবর্তনের কারণে তার আবেদনের পথ বন্ধ হয়ে যায় বলে জানায় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। বাধ্য হয়ে তাকে দেশ ছাড়তে হয়, যদিও তিনি দাবি করেন তিনি কোনো ভুল করেননি।
অন্যদিকে, সুইডেনে নতুন আইনের ফলে এখন শরণার্থী ও অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের সুযোগ প্রায় বিলুপ্ত করা হয়েছে। সাময়িক অনুমতির ভিত্তিতে তাদের থাকতে হবে এবং নিয়মিত যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। চাকরি হারানো, আর্থিক সমস্যায় পড়া বা পারিবারিক পরিবর্তনের মতো বিষয়ও এখন বসবাসের অধিকার হারানোর কারণ হতে পারে।
একই সঙ্গে নতুন ‘তথ্য-প্রদান আইন’ অনুযায়ী বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে অবৈধ অভিবাসীদের তথ্য পুলিশকে জানাতে হবে, যা গোপনীয়তার প্রচলিত ধারণাকে ভেঙে দিয়েছে। এতে অনিবন্ধিত ও অনিশ্চিত অবস্থায় থাকা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সুইডেনে বসবাসকারী ইরানি নাগরিক লেইলি মেহতারাব্বাসি প্রায় ২৬ বছর ধরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই জীবনযাপন করছেন। বারবার আবেদন করেও তিনি কোনো স্থায়ী অনুমোদন পাননি। নতুন আইন কার্যকর হলে তার অবস্থান আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডানপন্থি রাজনৈতিক শক্তির উত্থান এবং ইউরোপীয় অভিবাসন নীতির পরিবর্তনের প্রভাবে সুইডেন এখন কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। এর ফলে বহু অভিবাসী পরিবার ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছে।
মানবাধিকার আইনজীবীরা বলছেন, এসব পরিবর্তন শুধু নীতিগত নয়, বরং সুইডেনে বসবাসের মৌলিক নিরাপত্তা ধারণাকেই নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। ফলে হাজারো মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।
সূত্র: আলজাজিরা