দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভে সতর্কবার্তা দিলেন রামাফোসা নেতা

 প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০১:৫৩ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভে সতর্কবার্তা দিলেন রামাফোসা নেতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

দক্ষিণ আফ্রিকায় অনথিভুক্ত বিদেশিদের দেশ ছাড়ার জন্য নির্ধারিত অনানুষ্ঠানিক সময়সীমার প্রাক্কালে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়লেও শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। তিনি বলেছেন, প্রতিবাদ করার সাংবিধানিক অধিকার থাকলেও ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি, চূড়ান্ত আলটিমেটাম, ভাঙচুর কিংবা সহিংসতার কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, দক্ষিণ আফ্রিকার অভিবাসন ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। তবে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বহু বিদেশি বৈধভাবে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস করছেন, কাজ করছেন, পড়াশোনা করছেন, পরিবার গড়ে তুলেছেন, বিনিয়োগ করছেন এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখছেন। তাই তারাও দেশের আইন ও সংবিধানের সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকায় ৩০ লাখের বেশি বৈধ বিদেশি নাগরিক বসবাস করছেন। তবে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও সহিংসতার আশঙ্কায় কয়েক হাজার আফ্রিকান অভিবাসী ইতোমধ্যে নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন। অনেক অনথিভুক্ত অভিবাসী নিরাপত্তার কারণে কয়েক সপ্তাহ ধরে অস্থায়ী ট্রানজিট ক্যাম্পে অবস্থান করছেন। ডারবানে সবচেয়ে বড় এমন একটি ক্যাম্প গুটিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে মালাউইগামী বাসে ওঠার অপেক্ষায় নিজেদের মালপত্র নিয়ে সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে বহু মানুষকে।

মালাউইয়ের নাগরিক নেলসন এমবেউয়ে বলেন, পরিবারের ভরণপোষণের জন্য কাজের সন্ধানে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় এসেছিলেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় তাকে দেশে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। তিনি জানান, স্থানীয়রা তাদের ‘মাকওয়েরেকওয়েরে’ বলে অবমাননাকর ভাষায় সম্বোধন করে। তার ভাষায়, এটি দক্ষিণ আফ্রিকানদের দেশ, তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও ফিরে যাওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই। আরেক মালাউই নাগরিক হাসান ফিরি বলেন, আফ্রিকা একে অপরকে ছাড়া পূর্ণ হতে পারে না। দক্ষিণ আফ্রিকা, মালাউইসহ সব দেশ মিলেই আফ্রিকা। তাই বিভাজনের পরিবর্তে ভালোবাসা ও ঐক্য বজায় রাখা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার ডারবান, জোহানেসবার্গসহ বিভিন্ন শহরে অভিবাসীবিরোধী মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আয়োজকদের সতর্ক করে জানিয়েছে, কোনো ধরনের সহিংসতা বরদাশত করা হবে না এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মিছিলে ঐতিহ্যবাহী অস্ত্র বহনের অনুমতি নেই। তবে এতে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে, কারণ অনেক বিক্ষোভকারী জাতিগতভাবে জুলু সম্প্রদায়ের, যাদের মধ্যে মিছিলের সময় ঢাল, লাঠি ও চাবুক বহনের দীর্ঘদিনের প্রথা রয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে শুরু হওয়া অভিবাসীবিরোধী আন্দোলনের পর এ পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি অভিবাসীকে বহিষ্কার বা নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে ঘানা, মালাউই, মোজাম্বিক, নাইজেরিয়া ও জিম্বাবুয়ে নিজ দেশের নাগরিকদের বিমান ও বাসে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। প্রায় সাড়ে তিন হাজার বিদেশি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে সম্মত হয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা দাবি করেছে, ফেরত যাওয়া ৫০০-র বেশি নাইজেরীয় নাগরিকের বৈধ কাগজপত্র ছিল না, যদিও এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে নাইজেরিয়া।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশিবিদ্বেষ নতুন নয়। অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ইতিহাস দীর্ঘদিনের। আফ্রিকান সেন্টার ফর মাইগ্রেশন অ্যান্ড সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বিদেশিবিদ্বেষী হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। এর আগে ২০০৮ সালে অভিবাসীবিরোধী দাঙ্গায় ৬০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

সূত্র: বিবিসি

Advertisement
Advertisement
Advertisement