যুক্তরাষ্ট্রে প্রতারণা মামলায় চীনা ধনকুবেরের ৩০ বছরের কারাদণ্ড

 প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০১:৪৮ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতারণা মামলায় চীনা ধনকুবেরের ৩০ বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

চীনের সাবেক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও একসময়ের অন্যতম ধনী ব্যক্তি গুও ওয়েংগুই (মাইলস গুও) যুক্তরাষ্ট্রে এক বিলিয়ন ডলারের প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও অর্থপাচার মামলায় ৩০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। নিউইয়র্কের আদালতে বিচারক আনালিসা তোরেস রায় ঘোষণার সময় বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় থাকা চীনা নাগরিকদের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে গুও তাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন এবং সেই অর্থ নিজের বিলাসবহুল জীবনযাপনে ব্যয় করেছেন। এ বিষয়ে গুওর প্রতিনিধিদের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

রায় ঘোষণার সময় আদালতকক্ষ গুওর সমর্থকে পূর্ণ ছিল। মামলার প্রসিকিউটর শন এস. বাকলি বলেন, বৈধভাবে সফল হওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও গুও হাজারো মানুষের আস্থার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত লোভ পূরণ করেছেন। এই সাজা প্রমাণ করে, অর্থ ও খ্যাতি কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দেয় না এবং প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ক্ষতি করলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়।

চীনে সম্পত্তি ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া গুও একসময় দেশটির সরকারি মহলেও প্রভাবশালী ছিলেন। তবে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর ২০১৭ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেন এবং নিজেকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কঠোর সমালোচক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চীনা সম্প্রদায়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অনুসারী গড়ে তোলেন।

মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিনিয়োগ ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রকল্পের নামে অনুসারীদের কাছ থেকে তিনি এক বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেন। সেই অর্থ দিয়ে তিনি প্রায় ৫০ হাজার বর্গফুটের একটি প্রাসাদ, ১০ লাখ ডলারের ল্যাম্বরগিনি গাড়ি এবং ৩ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বিলাসবহুল ইয়টসহ নানা ব্যক্তিগত সম্পদ ক্রয় করেন। যদিও গুও দাবি করেছিলেন, সংগৃহীত অর্থ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ব্যয় করা হয়েছে।

গুও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যাননের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ২০২০ সালে তারা যৌথভাবে ‘নিউ ফেডারেল স্টেট অব চায়না’ নামে একটি উদ্যোগ চালু করেন, যার ঘোষিত লক্ষ্য ছিল চীনের কমিউনিস্ট পার্টির পতন ঘটানো। একই বছর কানেকটিকাটে গুওর ইয়ট থেকে ব্যাননকে গ্রেপ্তার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের জন্য গঠিত একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের অর্থ সংগ্রহে প্রতারণার পৃথক মামলায় তিনি পরে দোষ স্বীকার করেন এবং তিন বছরের শর্তসাপেক্ষ অব্যাহতির সাজা পান। এর আগে একই ঘটনায় আনা ফেডারেল অভিযোগে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদের শেষ সময়ে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদান করায় সেই বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।

সূত্র: বিবিসি

Advertisement
Advertisement
Advertisement