অতিরিক্ত ফলনে মালয়েশিয়ায় দুরিয়ান বিক্রি অর্ধেক দামে এখন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মালয়েশিতে চলতি মৌসুমে দুরিয়ানের রেকর্ড উৎপাদনের কারণে বাজারে ব্যাপক সরবরাহ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে একসময় ২০ ডলার পর্যন্ত বিক্রি হওয়া প্রিমিয়াম দুরিয়ান এখন অর্ধেক দামে বিক্রি হচ্ছে, কোথাও কোথাও আবার ক্রেতা টানতে বিনামূল্যেও বিতরণ করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী সিঙ্গাপুরেও, যেখানে কম দামে দুরিয়ান কিনতে কিংবা বিনা মূল্যে সংগ্রহ করতে প্রতিদিন দীর্ঘ সারিতে দাঁড়াচ্ছেন মানুষ।
সিঙ্গাপুরের তামপিনেস এলাকার ‘ডুরিয়ান নিনজা’ নামের একটি ফলের দোকান জুনের মাঝামাঝি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ কেজি দুরিয়ান বিনামূল্যে বিতরণ করছে। প্রতিজন ক্রেতাকে দুটি করে দুরিয়ান দেওয়া হচ্ছে। দোকান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ফলও খুব কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে, যার মধ্যে ছোট আকারের দুরিয়ান মাত্র এক সিঙ্গাপুর ডলারে বিক্রি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে গত এক দশকে মালয়েশিতে দুরিয়ান চাষের ব্যাপক সম্প্রসারণ। চীনে মালয়েশিয়ার প্রিমিয়াম ‘মুসাং কিং’ জাতের দুরিয়ানের চাহিদা দ্রুত বাড়ায় বহু কৃষক রাবার ও তেলপাম বাগান কেটে দুরিয়ান চাষ শুরু করেন। সে সময় রোপণ করা গাছগুলোর বড় অংশ এবার একসঙ্গে ফল দিতে শুরু করায় বাজারে সরবরাহ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এতে দেশীয় বাজারের পাশাপাশি রপ্তানিও চাপের মুখে পড়েছে।
চাষিরা জানান, গত ডিসেম্বরে যে মুসাং কিং দুরিয়ান খুচরা বিক্রেতাদের কাছে গড়ে ১৩ দশমিক ৫০ রিঙ্গিতে বিক্রি করেছিলেন, বর্তমানে সেটি প্রায় অর্ধেক দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। অনেক বিক্রেতা বাজারে টিকে থাকতে দাম এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিয়েছেন। তবে তারা বলছেন, উৎপাদন বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু নতুন অনেক বাগানের ফল আন্তর্জাতিক বাজারের মান পূরণ করতে পারছে না। ফলে রপ্তানিযোগ্য না হওয়া এসব ফল কম দামে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে।
চলতি মৌসুমে অতিরিক্ত উৎপাদনের পাশাপাশি অনুকূল না থাকা আবহাওয়াও অনেক চাষিকে ক্ষতির মুখে ফেলেছে। ফুল ফোটা, পরাগায়ন ও ফল পরিপক্ব হওয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে অতিবৃষ্টি, অস্বাভাবিক বাতাস কিংবা তাপমাত্রার পরিবর্তনের কারণে অনেক বাগানে উৎপাদন ও গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে পরিস্থিতিও একরকম ছিল না।
চাষিদের ক্ষতি কমাতে মালয়েশিয়ার ফেডারেল এগ্রিকালচারাল মার্কেটিং অথরিটি ক্ষুদ্র কৃষকদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভিত্তিমূল্যে দুরিয়ান কিনে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির দুরিয়ান শিল্প সংশ্লিষ্টরা চীনে বিভিন্ন বাণিজ্যিক উদ্যোগের মাধ্যমে রপ্তানি বাজার আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের লক্ষ্য, কম দামের প্রতিযোগিতার পরিবর্তে মান, উৎপত্তি ও স্বকীয়তার ভিত্তিতে মালয়েশিয়ার দুরিয়ানকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়া।
অন্যদিকে অতিরিক্ত মজুত কমাতে মালয়েশির বিভিন্ন দোকান ও বিপণনকেন্দ্র অভিনব প্রচারণা চালাচ্ছে। কোথাও নির্দিষ্ট মূল্যে ব্যাগভর্তি দুরিয়ান নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও ব্যাপক মূল্যছাড় ঘোষণা করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরের ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, কম দাম নতুন প্রজন্মের মধ্যে দুরিয়ান খাওয়ার আগ্রহ বাড়াবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা করবে।
সূত্র: বিবিসি