ধ্বংসস্তূপে জীবনের জয়, ভেনেজুয়েলায় উদ্ধার হলো দুই শিশু কিশোর

 প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ধ্বংসস্তূপে জীবনের জয়, ভেনেজুয়েলায় উদ্ধার হলো দুই শিশু কিশোর

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেক্স: 

ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পৃথক দুটি ভবনের ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১১ বছর বয়সী দুই শিশুকে, যা উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি স্বজনদের মধ্যেও নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা কমে আসছে।

অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, সপ্তাহান্তে জীবিত উদ্ধার হওয়া ৩৩ জনের মধ্যে দুই শিশুর উদ্ধার ছিল সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। বুধবার মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রায় ৮০০ ভবন ধসে পড়ে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৪৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

উদ্ধার হওয়া শিশুদের একজন মোইসেসকে প্রায় তিন মিটার গভীর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত বের করে আনে উদ্ধারকারী দল। তবে তার মা ও বোনের মরদেহ কাছেই পাওয়া যায়। কয়েক ঘণ্টা পর কারাবালেদা শহরে আরেক ১১ বছর বয়সী শিশুকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়।

দুর্যোগের পর প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টাকে জীবিত মানুষ উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও উদ্ধারকর্মীরা আশা ছাড়ছেন না। তাদের মতে, খাদ্য ও পানির কিছু ব্যবস্থা থাকলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ জীবিত থাকতে পারেন।

এদিকে সরকারের উদ্ধার কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে দুর্গতদের মধ্যে। অনেক পরিবার অভিযোগ করেছে, ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে তারা খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মানুষের শব্দ শোনা গেলেও পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়ায় তাদের উদ্ধার সম্ভব হচ্ছে না। এক দমকলকর্মী বলেন, এখনও বহু ভবনে অনুসন্ধানই শুরু করা যায়নি এবং সেখানে মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।


সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা অঞ্চলের বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি সমন্বয়ের অভাবে স্থানীয়রাই নিজেদের উদ্যোগে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভূমিকম্পে আট স্বজন হারানো এক বাসিন্দা জানান, সড়ক বন্ধ করে দেওয়ায় সহায়তা পৌঁছাতে বিলম্ব হয়েছে এবং উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়েছে।

একটি বেসরকারি নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকা পরিচালনাকারী প্ল্যাটফর্ম জানিয়েছে, এখনো ৪৬ হাজারের বেশি মানুষের সঙ্গে তাদের পরিবারের যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। এদিকে অব্যাহত আফটারশকের কারণে আতঙ্কে হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গা, বিমানবন্দর ও গলফ কোর্সে আশ্রয় নিয়েছেন। কারাবালেদার গলফ কোর্সটি এখন অস্থায়ী হাসপাতাল, ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র ও আশ্রয়শিবিরে পরিণত হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, সেনাবাহিনী খাদ্য, ওষুধ ও পোশাক বিতরণে কাজ করছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে জরুরি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি মেক্সিকো, স্পেন, কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দল এবং জাতিসংঘের সমন্বয়ে প্রায় দুই হাজার উদ্ধারকর্মী, শতাধিক অনুসন্ধানী কুকুর ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের খোঁজে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement