ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তিতে ক্ষোভে ফুঁসছে লেবানন, বিক্ষোভে সমর্থকদের ঢল
আন্তর্জাতিক ডেক্স নিউজ:
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন কাঠামোগত চুক্তিকে ঘিরে লেবাননে ব্যাপক বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। চুক্তিতে দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বাধ্যবাধকতা না থাকায় রাজধানী বৈরুতে রাস্তায় নেমে আসে হাজারো বিক্ষোভকারী। তাদের অনেকেই হিজবুল্লাহর পতাকা বহন করে চুক্তিকে দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য অপমানজনক বলে আখ্যা দেন।
দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতের উপশহর দাহিয়ায় ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ সবচেয়ে বেশি। বহুবার বাস্তুচ্যুত হওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, যুদ্ধ, ধ্বংস ও প্রাণহানির পর একই রাষ্ট্রের সঙ্গে এমন একটি চুক্তি মেনে নেওয়া তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন। তাদের অভিযোগ, এই সমঝোতা যুদ্ধাহত মানুষের ন্যায়বিচার ও আত্মমর্যাদার প্রতিফলন ঘটায়নি।
চুক্তির ১৪ দফায় বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেশটির সেনাবাহিনীর হাতে যাবে এবং অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণের পর ওই এলাকায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হবে। তবে এতে ইসরায়েলি বাহিনী কবে দখলকৃত এলাকা ছাড়বে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। এ কারণে বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, বাস্তবতার তুলনায় চুক্তিটি ইসরায়েলের অবস্থানকেই বেশি শক্তিশালী করেছে।
হিজবুল্লাহ মহাসচিব নাইম কাসেম চুক্তিকে ‘অকার্যকর, অপমানজনক ও আত্মসমর্পণের দলিল’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। দলটির সংসদ সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহ অভ্যন্তরীণ সংঘাতের আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেছেন। যদিও সংসদের স্পিকার নাবিহ বেরি শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে দেশে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বলেছেন, এই কাঠামোগত সমঝোতার লক্ষ্য লেবাননের সব ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার নিশ্চিত করা। প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন একে দেশের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের প্রথম ধাপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইসরায়েলের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি অনেকটাই ১৯৯০-এর দশকের অসলো চুক্তির ধাঁচ অনুসরণ করেছে, যেখানে দুর্বল পক্ষকে বড় ধরনের ছাড় দিতে হলেও শক্তিশালী পক্ষের ওপর কার্যকর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়নি। তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে চুক্তির মধ্যস্থতাকারী এবং ইসরায়েলের প্রধান মিত্র হওয়ায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখা কঠিন হবে
চুক্তির অন্যতম শর্ত অনুযায়ী লেবাননের সেনাবাহিনীকে সব অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্রীকরণের উদ্যোগ নিতে হবে। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, হিজবুল্লাহকে জোরপূর্বক নিরস্ত্রীকরণের চেষ্টা দেশকে নতুন সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই লেবাননের সরকার ও সেনাবাহিনী এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে অত্যন্ত সতর্ক থাকবে।