ধ্বংসস্তূপে আটকে ছেলে, কান্নার শব্দে বাঁচার আশা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভয়াবহ প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা প্রায় দুই বছর বয়সী ছেলে সান্তিয়াগোর কান্নার শব্দ শুনে নতুন করে আশার আলো দেখছেন মা আন্দ্রেইনা ভালেরিও। বিবিসিকে তিনি বলেন, এখনও তাঁর বিশ্বাস, ছেলে জীবিত রয়েছে এবং উদ্ধারকর্মীরা তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হবেন।
ভূমিকম্পের দিন কর্মস্থল থেকে ছুটে এসে আন্দ্রেইনা দেখতে পান, উপকূলীয় লা গুয়াইরায় শ্বশুরবাড়ির বহুতল ভবনটি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। ওই ভবনের নিচে আটকা পড়েছেন তাঁর ছেলে সান্তিয়াগো, জীবনসঙ্গী রামসেস মেন্দোজা, শ্বশুর-শাশুড়ি, দাদা-দাদি ও ননদ। তাঁর দেবর স্যামুয়েল মেন্দোজা ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
আন্দ্রেইনা ও স্যামুয়েলের দাবি, একই ভবনের নিচে আরও কয়েকজন শিশু আটকে রয়েছে। তাদের মধ্যে নয় বছর বয়সী লুকাস এবং তিন বছর বয়সী আরানজার কথাও তারা জানিয়েছেন।
শনিবার এল সালভাদর ও স্পেনের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ভবনের ভেতরে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। ওই সময় পর্যন্ত ভবনটি থেকে কাউকে জীবিত উদ্ধার করা যায়নি।
স্যামুয়েল জানান, ভূমিকম্পের পরের সকালে তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক নারীর কণ্ঠে ‘বাঁচাও’ শব্দটি শুনতে পান। পরদিন সেখানে গিয়ে আন্দ্রেইনা একটি শিশুর কান্নার শব্দ শুনেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, “আমার এখনও বিশ্বাস, ওটা আমার ছেলের কান্না। আমি জানি, আমার ছেলে এবং তার পরিবারের সদস্যরা এই বিপর্যয় থেকে বেঁচে ফিরবে।”
লা গুয়াইরায় অসংখ্য মানুষ নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে ধ্বংসস্তূপে খালি হাতে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। প্রতিবেশী ও বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবীরাও উদ্ধারকাজে সহায়তা করছেন। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, এত বড় দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য দেশটি পর্যাপ্ত প্রস্তুত ছিল না।
সরকারি হিসাবে, লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যে ১ হাজার ৪০০টির বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ এ ঘটনাকে গত ১২৩ বছরের মধ্যে দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৩০ জনে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন ৩ হাজার ২৩৮ জন। তবে এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, লা গুয়াইরায় নিরাপত্তা ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় ১৪ হাজার পুলিশ ও সামরিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ১০টি দেশের উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সহায়তার জন্য পৌঁছানোর কথা রয়েছে এবং অঞ্চলটির প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার হয়েছে।
দুর্গত এলাকায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় আহতদের অনেককে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। রাজধানী কারাকাসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, লা গুয়াইরা থেকে অন্তত ৬০০ আহতকে সেখানে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশের হাড় ভেঙেছে এবং অনেকেই তীব্র মানসিক আঘাত ও আতঙ্কে ভুগছেন।
এদিকে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে হাসপাতালের বাইরে নিহত ও চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের তালিকার পাশে পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজদের ছবি ও পোস্টার টাঙিয়ে অপেক্ষা করছেন, যদি কোনো খোঁজ মেলে।
সূত্র: বিবিসি