চুক্তির পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, ক্ষোভ হিজবুল্লাহর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
লেবাননের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নতুন নিরাপত্তা কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষরের একদিনের মাথায় দক্ষিণ লেবাননে আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা শহরে একটি ইসরায়েলি ড্রোন হামলার পর একই এলাকায় আরও কয়েকটি হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত আরও দুজন আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের বাহিনীর জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিল—এমন একজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করেই ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় বা হুমকির প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
শুক্রবার ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তিতে হিজবুল্লাহ অংশ নেয়নি। সংগঠনটির মহাসচিব নাইম কাসেম চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করে একে লেবাননের সার্বভৌমত্বের জন্য অপমানজনক ও আত্মসমর্পণের শামিল বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারকে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যা তাদের কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, লেবানন সরকার গুরুতর ভুল করেছে এবং হিজবুল্লাহ সশস্ত্র প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চুক্তিটিকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি ইরান ও হিজবুল্লাহর জন্য বড় ধরনের ধাক্কা। চুক্তির আওতায় দক্ষিণ লিতানি এলাকা থেকে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে এবং সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেবে। তবে একটি সম্প্রসারিত নিরাপত্তা অঞ্চলে ইসরায়েলি সেনাদের আপাতত অবস্থান অব্যাহত রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে।
শনিবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানান, দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে দীর্ঘ সময় অবস্থানের প্রস্তুতি নিতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘোষণা নতুন চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।
চলতি বছরের ২ মার্চ ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর দুই পক্ষের সংঘাত নতুন করে শুরু হয়। এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা ও দক্ষিণাঞ্চলে স্থল অভিযান চালায়। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান সংঘাতে দেশটিতে অন্তত ৪ হাজার ১৯২ জন নিহত, ১১ হাজার ৬০০ জনের বেশি আহত এবং ১২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ইসরায়েলের হিসাবে, সীমান্তের দুই পাশে তাদের ৩৬ সেনা ও চার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।