মেম থেকে রাজপথ: ভারতের নজিরবিহীন ছাত্র আন্দোলনের নেপথ্যে

 প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

মেম থেকে রাজপথ: ভারতের নজিরবিহীন ছাত্র আন্দোলনের নেপথ্যে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির বুকে এখন এক অভিনব প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়েছে। যা কিছুদিন আগেও ইন্টারনেট দুনিয়ায় একটি নিছক অনলাইন কৌতুক বা ‘মেম’ হিসেবে সীমাবদ্ধ ছিল, তা-ই এখন রূপ নিয়েছে এক বিশাল গণআন্দোলনে। মেডিক্যাল এন্ট্রান্স বা নিট (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং জাতীয় পরীক্ষা ব্যবস্থার নজিরবিহীন কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে দেশটির তরুণ প্রজন্ম। 

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে গত শনিবার থেকে টানা অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। এই ব্যতিক্রমী যুব আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছেন বোস্টন ইউনিভার্সিটির স্নাতক, ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে, যিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে গঠিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা।

আন্দোলনের এই অদ্ভুত নামকরণের পেছনে রয়েছে এক তীব্র ক্ষোভ। ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে দেশটির বেকার যুবকদের প্রতি ‘তেলাপোকা’ সম্বোধন হিসেবে ধরে নিয়ে এই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দলের জন্ম হয়। মাত্র এক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন ভারতের রাজপথে মোদি সরকারের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

আন্দোলনকারীরা প্রতিদিন নিত্যনতুন প্রতীকী প্রতিবাদের আশ্রয় নিচ্ছেন। কখনো তারা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের হাতে গোলাপ তুলে দিচ্ছেন, আবার কখনো মোদি সরকারের করোনাকালীন থালা বাজানোর আহ্বানকে কটাক্ষ করে থালা-বাটি বাজিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এমনকি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ‘ফাঁস’ বা লিকেজ বন্ধে সরকারের ব্যর্থতাকে ব্যঙ্গ করে তারা প্রতীকী হিসেবে ডায়াপার উড়িয়েও অভিনব বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।

ভারতের এই মেক-অর-ব্রেক বা জীবন-মরণ পরীক্ষা পদ্ধতি লাখ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ। মাত্র দশমিক শতাংশ নম্বরের ব্যবধানে যেখানে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়, সেখানে গত মে মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া দেশের সবচেয়ে বড় এই মেডিক্যাল এন্ট্রান্স পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিল করায় ২০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে। 


তীব্র মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে, যাদের স্মরণে আন্দোলনকারীরা যন্তর মন্তরে মোমবাতি প্রজ্বলন করেন। এদিকে চলমান এই আন্দোলনকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বি-টিম’ বলে আখ্যায়িত করলেও, আন্দোলনকারীরা একে তাদের নৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখছেন। দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের প্রস্তুতি চললেও, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন এই লড়াকু তরুণরা।

সূত্র: সিএনএন

Advertisement
Advertisement
Advertisement