পাশ্চাত্য ছেড়ে রাশিয়ায়: মোহভঙ্গ ও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি

 প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১১:২৫ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

পাশ্চাত্য ছেড়ে রাশিয়ায়: মোহভঙ্গ ও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

পাশ্চাত্যের উদারপন্থী আদর্শ ও রাজনৈতিক বিভাজনে বিরক্ত হয়ে একদল মানুষ পাড়ি জমাচ্ছেন রাশিয়ায়। ক্রেমলিনের প্রচারিত ‘ঐতিহ্যগত পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের’ প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ২০২৩ সাল থেকে এই অভিবাসন শুরু হয়। 

বিশেষ করে ২০২৪ সালে ভ্লাদিমির পুতিন প্রবর্তিত 'শেয়ার্ড ভ্যালুস' বা ‘অ্যান্টি-ওক’ ভিসার আওতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ বেশ কিছু দেশের নাগরিক সেখানে স্থানান্তরিত হচ্ছেন। এই বিশেষ ভিসায় কোনো ভাষা বা ইতিহাস পরীক্ষা ছাড়াই তিন বছর পর্যন্ত বসবাসের সুযোগ মিলছে। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর অনেক অভিবাসীরই মোহভঙ্গ ঘটছে এবং তারা চরম বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

টেক্সাসের কট্টর খ্রিষ্টান লেও হেয়ার তার পরিবার নিয়ে রাশিয়ায় গিয়ে প্রথম দিকে ব্যাপক প্রচার পেলেও দ্রুতই বড় ধাক্কা খান। বিশ্বস্ত এক ব্যক্তির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ জালিয়াতির শিকার হয়ে তারা গৃহহীন হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তার বড় সন্তানরা আমেরিকায় ফিরে যায় এবং তিনি নিজে এখন ভিন্ন শহরে থাকছেন। 

রাশিয়ার সাধারণ মানুষের আতিথেয়তা ও চার্চের সহযোগিতার প্রশংসা করলেও, তিনি এখন দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং অবাধ তথ্যের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে, তিনি রাশিয়ার একপেশে প্রচারণার ফাঁদে পা দিয়েছিলেন এবং এখন আমেরিকার মানুষের মানবাধিকারের স্বাধীনতা মিস করছেন।

অন্যদিকে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেও অনেকে ব্যক্তিগত কারণে রাশিয়ায় যাচ্ছেন। যুক্তরাজ্যের ডার্বি থেকে ২০২৩ সালে প্রেমিকার টানে কুরস্কে আসা বেন নামের এক ব্রিটিশ নাগরিক জানান, প্রচারণায় রাশিয়াকে রক্ষণশীলদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। সেখানে উচ্চ বিবাহবিচ্ছেদ, একক অভিভাবকত্ব এবং গর্ভপাতের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, যা কোনোভাবেই রক্ষণশীল ইউটোপিয়া বা আদর্শ সমাজ হতে পারে পারে না। যদিও ইউক্রেন যুদ্ধকে অনেকে এড়িয়ে গিয়ে একে একটি অরাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, দুই বছর পার হলেও আদর্শিক কারণে রাশিয়ায় যাওয়ার এই প্রবণতা এখনো বেশ সীমিত পরিসরেই আটকে আছে।

 সূত্র: বিবিসি

Advertisement
Advertisement
Advertisement