পশ্চিম তীরে মসজিদে হামলা: ৬ ইসরায়েলি সেটলারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ

 প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

পশ্চিম তীরে মসজিদে হামলা: ৬ ইসরায়েলি সেটলারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি গ্রাম ও মসজিদে হামলার ঘটনায় ৬ ইসরায়েলি সেটলারের (অবৈধ বসতি স্থাপনকারী) বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ইন্ডিক্টমেন্ট) গঠন করেছেন ইসরায়েলের প্রসিকিউটররা। ইসরায়েলি পুলিশের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং সহিংস দাঙ্গার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ইসরায়েলি পুলিশের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "জাতীয়তাবাদী উদ্দেশ্য থেকে দির দিবওয়ান (Deir Dibwan) গ্রামে সন্ত্রাসবাদ, অগ্নিসংযোগ, সাবোটাজ এবং সহিংস দাঙ্গার অপরাধে ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।" দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে পাঁচজনই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং একজন ১৮ বছর বয়সী তরুণ। জেরুজালেম জেলা আদালতে তাদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদ-প্ররোচিত সহিংসতা ও সন্ত্রাসী পরিস্থিতিতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়।

অভিযোগের পরও থামেনি হামলা

অভিযোগ গঠন করা হলেও পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা ও নিপীড়ন অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘ওয়াফা’ (Wafa) জানিয়েছে, গত শুক্রবারও পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ও যানবাহনে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে সেটলাররা। রামাল্লার পূর্বাঞ্চলীয় বুরকা গ্রামে ফিলিস্তিনিদের কৃষিজমিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।


সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনাটি ঘটে হেব্রনের ওল্ড সিটির আল-রাস মসজিদে। শুক্রবার ভোর হওয়ার আগেই ইসরায়েলি বাহিনী ও সেটলাররা যৌথভাবে ওই মসজিদে হানা দেয়। তারা মসজিদের ভেতরে থাকা ফিলিস্তিনিদের ওপর চড়াও হয় এবং ভোরের নামাজ (ফজর) আদায়ে বাধা সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তারা মসজিদটি সাধারণ মুসল্লিদের জন্য বন্ধ করে দেয় এবং মসজিদের ওপর ইসরায়েলি পতাকা উত্তোলন করে। ফিলিস্তিনের এনডাওমেন্টস ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

এছাড়া, অধিকৃত জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের কাছাকাছি এলাকা থেকে এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তিকে মারধর ও আটক করার খবর পাওয়া গেছে।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও ইসরায়েলি প্রতিক্রিয়া

পশ্চিম তীরে চলমান এই সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যের মতো পশ্চিমা দেশগুলো যৌথভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সেটলার সহিংসতার অর্থায়ন, সহায়তা এবং তা বাস্তবায়নের সাথে জড়িত নেটওয়ার্কগুলোকে লক্ষ্য করে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

তবে এই নিষেধাজ্ঞাকে পাত্তাই দিচ্ছে না ইসরায়েলের উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো। ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ (Bezalel Smotrich) মন্তব্য করেছেন যে, সেটলার গ্রুপ এবং তাদের নেতারা এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘সম্মানের প্রতীক’ (badge of honour) হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, গাজায় বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনার সাথে জড়িত ‘নাচালা’ (Nachala) আন্দোলনের নেত্রী দানিয়েলা ওয়েইস এই আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাকে ‘হাস্যকর’ ও ‘তুচ্ছ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ আদালতের কিছু পদক্ষেপ সত্ত্বেও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর দখলদার ও সেটলারদের সহিংসতা দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement