হরমুজ উত্তেজনা ফের উসকে দিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি আইআরজিসির

 প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

হরমুজ উত্তেজনা ফের উসকে দিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত  উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি আইআরজিসির

আন্তর্জাতিক ডেক্স নিউজ:

ইরানে সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত আইআরজিসির এক বার্তায় এ দাবি জানানো হয়।

বার্তায় আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে তার জবাব আরও কঠোর ও বিস্তৃত পরিসরে দেওয়া হবে।

এর আগে মার্কিন সেনাবাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তারা ইরানের কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ওই জাহাজে হামলার পেছনে তেহরানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত প্রশমনের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘটিত হামলা এবং উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ সেই সম্ভাবনাকে আবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ সম্পন্ন হয়। ফলে এ অঞ্চলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এভার লাভলি-তে হামলার ঘটনাকে গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ‘অযৌক্তিক লঙ্ঘনহিসেবে অভিহিত করেন।

ওই সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছিল। এর মাধ্যমে মূলত চলমান যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নয়; বরং ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ সুগম করার একটি প্রাথমিক কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত

Advertisement
Advertisement
Advertisement