হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার জেরে ইরানের সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা

 প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার জেরে ইরানের সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক কার্গো জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ‘অযৌক্তিকভাবে লঙ্ঘনের’ অভিযোগ তোলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুক্রবার এ হামলা চালানো হয়। হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার, পাশাপাশি উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার একটি একমুখী (ওয়ান-ওয়ে) ড্রোন হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত একটি বাণিজ্যিক কার্গো জাহাজে আঘাত হানে। এতে কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ওই অঞ্চলে অবস্থানরত ১১ হাজারের বেশি নাবিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

হামলার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের পদক্ষেপের উপযুক্ত জবাব খুব শিগগিরই দেওয়া হবে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান সেই ঘোষণারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়।

সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচলের জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও নিরাপত্তা সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলেও জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কার্যত সীমাবদ্ধতা আরোপ করে ইরান। পরে ১৭ জুন উভয় পক্ষ ১৪ দফা সমঝোতায় পৌঁছে সংঘাত প্রশমনে সম্মত হয়। ওই সমঝোতার অন্যতম শর্ত ছিল বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা। তবে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলা ও তার জেরে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা সামরিক অভিযানের ফলে আবারও মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে

Advertisement
Advertisement
Advertisement