তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে ইউরোপ: জার্মানিতে ভাঙল সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড

 প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে ইউরোপ: জার্মানিতে ভাঙল সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

গ্রীষ্মের শুরুতেই ইউরোপজুড়ে জেঁকে বসেছে এক অভূতপূর্ব ও প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহ। শুক্রবার জার্মানি, বেলজিয়াম এবং নেদারল্যান্ডসে জুনের সব রেকর্ড ভেঙে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছেছে। তীব্র গরমে ফ্রান্স ও স্পেনে মৃতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। 

 স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বিভিন্ন দেশে কনসার্ট, ম্যারাথনসহ বড় বড় গণজমায়েত ও পাবলিক ইভেন্ট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) সতর্ক করে জানিয়েছে, মানবস্বাস্থ্য, বাস্তুতন্ত্র ও কৃষিখাতে এই চরম আবহাওয়ার বড় ধরনের বিপর্যয়কারী প্রভাব পড়ছে।

ভয়াবহ এই তাপপ্রবাহে এখন পর্যন্ত মহাদেশটির প্রায় ১৫ কোটি মানুষকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার মুখোমুখি হতে হয়েছে। জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সারব্রুকেনে সাময়িকভাবে দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি বেলজিয়ামের ক্লেইন ব্রোগেলে ৪০ ডিগ্রি এবং নেদারল্যান্ডসের লিম্বুর্গে ৩৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছুঁয়েছে। 

তীব্র গরমের কারণে বেলজিয়ামে ইউরোস্টার রেলসেবা ভেঙে পড়ে একটি ট্রেনের ৪০০ যাত্রী মাঝপথে আটকা পড়েন, যাদের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। সুইজারল্যান্ডে অতিরিক্ত গরমের কারণে নদী অববাহিকার পানি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি চুল্লি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আল্পস পর্বতমালার হিমবাহগুলো আগস্টের পরিবর্তে জুনেই গলতে শুরু করেছে, যা পরিবেশবিদদের চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ফ্রান্স ও স্পেনে। স্পেনের সরকারি নজরদারি ব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, তাপপ্রবাহের কারণে মাত্র কয়েক দিনে অন্তত ৩২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফ্রান্সে হাসপাতালগুলো রোগীর চাপে উপচে পড়ছে এবং রাজধানী প্যারিস অঞ্চলে জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা জারি করা হয়েছে। সেখানে ঘরের মাঠে একা থাকা প্রবীণদের মৃত্যুর পাশাপাশি গাড়ির ভেতর আটকে পড়ে কয়েকটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। 

তীব্র গরমে নদী ও সমুদ্রে অনিয়ন্ত্রিত সাঁতার কাটতে গিয়ে দেশটিতে অন্তত ৫৫ জন পানিতে ডুবে মারা গেছেন। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইউরোপ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন, যার নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি এখন পুরো মহাদেশটি।

সূত্র: বিবিসি

Advertisement
Advertisement
Advertisement