ইতালির রোমে বাংলাদেশি দম্পতি ও শিশুকন্যা নিহত, হত্যার কারণ এখনও অজানা

 প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৭:৩১ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ইতালির রোমে বাংলাদেশি দম্পতি ও শিশুকন্যা নিহত, হত্যার কারণ এখনও অজানা

 আন্তর্জাতিক ডেক্স নিউজ:

 ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতরা হলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজু (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরওয়া ইসলাম আরিশা। একই ঘটনায় তাদের ছেলে আমির হোসেন অয়ন (১৮) গুরুতর আহত হয়েছেন এবং স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শনিবার (২৭ জুন) সকালে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিহত কামাল উদ্দিনের গ্রামের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা যায়।

জানা গেছে, শুক্রবার ইতালি সময় রাত প্রায় ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলের অরেলিও এলাকার ভিয়া মন্টিগ্লিও সড়কের একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিবেশীরা ফ্ল্যাট থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে পুলিশে খবর দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

ইতালির সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা যায়, প্রাথমিক সুরতহাল শেষে তদন্ত কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে তাদের হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে রোম পুলিশের বিশেষ শাখা ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করেছেন। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বা এর সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি।

নিহত কামালের চাচাতো ভাই সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাদের বাড়িতে জড়ো হয়েছেন। তিনি জানান, ইতালির আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং আহত আমির হোসেন অয়নকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত।

নিহত কামালের বাবা সিরাজুল ইসলাম দাবি করেন, এক বছর আগে কামাল দেশে এলে তাদের বাড়িতে একটি উড়ো চিঠির মাধ্যমে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি সে সময় স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত এবং বিচার দাবি করেছেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement