যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলায় যুদ্ধবিরতি সংকটে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার পর উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। এতে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি সমঝোতার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শনিবার হরমুজ প্রণালিতে পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ এমটি কিকু-তে ইরানের একমুখী ড্রোন হামলার জবাবে তারা ইরানের বিভিন্ন স্থানে ১০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম, যোগাযোগব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা এবং ড্রোন সংরক্ষণাগার ছিল। ওয়াশিংটনের দাবি, বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের বিরুদ্ধে ইরানের ধারাবাহিক আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় এ হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাঁচটি উপকূলীয় সামরিক অবস্থানে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে তারা কুয়েতের আলি আল-সালেম ঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের স্থাপনাসহ আটটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এসব হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণে তাদের নতুন ব্যবস্থার আওতায় ভবিষ্যতে নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপের জবাব হবে ‘চূর্ণবিচূর্ণকারী’।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, ওয়াশিংটন নিজ প্রতিশ্রুতির প্রতি কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না এবং এ ধরনের পদক্ষেপ চলতে থাকলে সমঝোতা প্রক্রিয়া পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে। পাল্টা সেন্টকমের দাবি, যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করেছে ইরানই, কারণ তারা বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বলেছেন, ইরান যদি একই ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের শুরু করা অভিযান সম্পূর্ণ করবে।
হামলার পর কুয়েত ও বাহরাইন উভয় দেশই তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করার ঘোষণা দেয়। কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
নতুন এ সংঘাতের আগে ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। ওই সমঝোতায় ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ ও টোলমুক্ত চলাচল নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ছিল। তবে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার পর উভয় পক্ষই একে অপরকে চুক্তি ভঙ্গের জন্য দায়ী করায় যুদ্ধবিরতি কার্যত গভীর সংকটে পড়েছে।