যুদ্ধের ছায়ায় ভাঙল ইরানের বিশ্বকাপের নকআউট স্বপ্ন এবার
আন্তর্জাতিক ডেক্স নিউজ:
তেহরান: নাটকীয় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ইরান। গ্রুপ পর্বে তিনটি ম্যাচেই ড্র করে তিন পয়েন্ট সংগ্রহ করলেও তৃতীয় স্থানে থেকে নকআউটে ওঠার আশা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়। ৪৮ দলের বিশ্বকাপে আটটি সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলের মধ্যে জায়গা করে নেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছেও ভাগ্য সহায় হয়নি দলটির।
মিশরের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে যোগ করা সময়ে শোজা খলিলজাদেহর করা গোলটি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) অফসাইডের কারণে বাতিল করে। গোলটি বহাল থাকলে ইরান সরাসরি পরের পর্বে উঠে যেত। পুরো আসরে ইরানের তিনটি গোল ভিএআরে বাতিল হয়, যা অন্য যেকোনো দলের চেয়ে বেশি। ম্যাচ শেষে প্রধান কোচ আমির গালেনোই দুর্ভাগ্যের কথা তুলে ধরে বলেন, যেন ভাগ্যও তাদের বিপক্ষে ছিল।
ইরানের বিদায় নিশ্চিত হয় পরদিন অন্য গ্রুপগুলোর ফলাফলের পর। নকআউটে উঠতে প্রয়োজনীয় কয়েকটি ফলের একটিও তাদের পক্ষে আসেনি। আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়ার ড্র ইরানের সম্ভাবনায় শেষ আঘাত হানে। তবে ম্যাচটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমঝোতার অভিযোগ উঠলেও অস্ট্রিয়ার কোচ রালফ রাংনিক তা উড়িয়ে দেন।
বিশ্বকাপজুড়ে মাঠের বাইরেও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয় ইরান দল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের ওপর ছিল কড়া ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। দলের অধিকাংশ সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় অবস্থান করতে হয় এবং ম্যাচের ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। একই সময়ে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে মার্কিন সামরিক হামলার ঘটনাও দেশটির মানুষের আবেগ আরও তীব্র করে তোলে।
দেশটির ভেতরে ও প্রবাসী ইরানিদের মধ্যেও জাতীয় দলকে ঘিরে বিভক্তি স্পষ্ট ছিল। সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলন ও প্রাণহানির ঘটনার পর অনেকেই মনে করেন, জাতীয় দল আর পুরো সমাজের অনুভূতির প্রতিনিধিত্ব করে না। তবু বিশ্বকাপজুড়ে বিপুলসংখ্যক ইরানি সমর্থক মাঠে ও দেশের বিভিন্ন স্থানে দলকে সমর্থন জানিয়েছেন।
সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ খাকপুর বলেন, জাতীয় দলকে ঘিরে ইরানিদের বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া দেশের সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন। অনেকের কাছে এটি শুধু একটি ফুটবল দলের বিদায় নয়, বরং সমাজের গভীর বিভাজনেরও বহিঃপ্রকাশ।
সূত্র: আলজাজিরা