সংবাদ শিরোনাম

জাতিসংঘের তহবিল সংকটে ঝুঁকিতে লাখো ফিলিস্তিনি শরণার্থী জীবন

 প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘের তহবিল সংকটে ঝুঁকিতে লাখো ফিলিস্তিনি শরণার্থী জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য কাজ করা জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর (UNRWA) তহবিলে ১০ কোটি ডলারের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় লাখো ফিলিস্তিনির জীবন ও মৌলিক সেবা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সংস্থাটির দাতা সম্মেলনে তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি জরুরি ভিত্তিতে অর্থায়নের আহ্বান জানান এবং বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা না পেলে মানবিক সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

গুতেরেস বলেন, গাজায় মানুষের জীবনযাত্রার অবস্থা ‘চরম ভয়াবহ’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক হামলার কারণে বহু ফিলিস্তিনি শরণার্থী নতুন করে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডজুড়ে ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রম নানা বিধিনিষেধের মুখে পড়েছে, যা সংস্থাটির মানবিক কার্যক্রমকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

১৯৪৯ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠিত ইউএনআরডব্লিউএ বর্তমানে গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম, লেবানন, জর্ডান ও সিরিয়ায় প্রায় ২৬ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থীকে খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সহায়তা এবং আশ্রয়সহ বিভিন্ন ধরনের মানবিক সেবা দিয়ে আসছে। তবে দীর্ঘদিনের অর্থসংকটের কারণে সংস্থাটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যা একসময় ইউএনআরডব্লিউএর সবচেয়ে বড় দাতা ছিল, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সংস্থাটির অর্থায়ন স্থগিত করে। এর আগে ইসরায়েল অভিযোগ করেছিল, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইউএনআরডব্লিউএর কয়েকজন কর্মী জড়িত ছিলেন। তবে জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ তদন্তে ১৯ জন অভিযুক্ত কর্মীর মধ্যে নয়জনের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও বাকি ১০ জনের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত বা গ্রহণযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

গুতেরেস বলেন, ইউএনআরডব্লিউএ অভিযোগের পর প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে এবং কর্মীদের রাজনৈতিক ও বহিরাগত কার্যক্রমসংক্রান্ত নীতিমালা হালনাগাদ করেছে। এরপরও সংস্থাটিকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে ‘ভুল তথ্য, অপপ্রচার, আইনগত বাধা, কার্যক্রমে বিধিনিষেধ এবং কূটনৈতিক প্রতিবন্ধকতা’ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষায়, ইউএনআরডব্লিউএ অস্থিতিশীল অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি।

তিনি আরও জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ইউএনআরডব্লিউএর ৩৯০ জন কর্মী নিহত হয়েছেন, যা সংস্থাটির ইতিহাসে নজিরবিহীন ক্ষতি। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত আর্থিক সহায়তা ছাড়া সংস্থাটির পক্ষে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।

এদিকে জাতিসংঘে তুরস্কের স্থায়ী প্রতিনিধি আহমেত ইলদিজ দাতা সম্মেলনে বলেন, ইউএনআরডব্লিউএ বর্তমানে নজিরবিহীন রাজনৈতিক চাপ ও কার্যক্রমে বাধার মুখোমুখি। তাঁর অভিযোগ, গাজা ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সংস্থাটির কর্মী ও স্থাপনাগুলোও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। তিনি এসব পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন।

সূত্র: আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement