মেক্সিকোর জয়ে ভাঙল চল্লিশ বছরের নকআউট অভিশাপ
ক্রীড়া ডেস্ক:
সহ-আয়োজক মেক্সিকো দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়ে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় তুলে নিয়ে চার দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটাল স্বাগতিকরা। বৈরী আবহাওয়ার কারণে ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পরে শুরু হলেও তাতে মেক্সিকোর ছন্দে কোনো প্রভাব পড়েনি। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে তারা প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে।
মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ২২তম মিনিটে জুলিয়ান কিনোনেস দুর্দান্ত এক শটে দলকে এগিয়ে দেন। রবার্তো আলভারাদোর পাস থেকে বল পেয়ে বাম দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে শক্তিশালী শটে ইকুয়েডরের গোলরক্ষক হার্নান গালিন্দেসকে পরাস্ত করেন তিনি। এরপর ৩০তম মিনিটে কিনোনেসের নিখুঁত পাস থেকে রাউল হিমেনেস দারুণ এক শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এই দুই গোলই শেষ পর্যন্ত মেক্সিকোর সহজ জয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে ইকুয়েডর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও মেক্সিকোর সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ও নিয়ন্ত্রিত ফুটবলের সামনে তারা কার্যকর সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। বরং পাল্টা আক্রমণে আরও কয়েকবার গোলের কাছাকাছি পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা। ম্যাচের যোগ করা সময়ে ইকুয়েডরের পিয়েরো হিনকাপিয়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন, যা দলটির হতাশাজনক পারফরম্যান্সকে আরও ম্লান করে দেয়।
এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপে আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর অপরাজিত থাকার ধারাবাহিকতা ১০ ম্যাচে পৌঁছেছে। গ্রুপ পর্বে তিনটি ম্যাচই জিতে এবং কোনো গোল না খেয়ে নকআউটে ওঠা মেক্সিকো এখন শেষ ষোলোতে ইংল্যান্ড অথবা কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের মুখোমুখি হবে। শেষ ষোলোর ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে আজতেকা স্টেডিয়ামে। এরপর কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে টুর্নামেন্টের বাকি সব ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে।
এদিন মেক্সিকোর হয়ে ১৭ বছর বয়সী গিলবার্তো মোরা শুরুর একাদশে জায়গা করে ইতিহাস গড়েন। তিনি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে শুরু থেকেই খেলা দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হন। এর আগে ১৯৫৮ সালে ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের দখলে ছিল এই কীর্তি।