যুক্তরাষ্ট্র তুলে নিল অ্যানথ্রপিকের শক্তিশালী এআই মডেলের নিষেধাজ্ঞা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের (Anthropic) সবচেয়ে শক্তিশালী এআই মডেল ক্লড ফেবল ৫ (Claude Fable 5) এবং মিথোস ৫ (Mythos 5)-এর ওপর আরোপিত বিদেশি ব্যবহারসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে। এর ফলে আগামীকাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবহারকারীদের জন্য মডেল দুটি ধাপে ধাপে পুনরায় চালু করবে প্রতিষ্ঠানটি।
মঙ্গলবার রাতে অ্যানথ্রপিক এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ (Department of Commerce) রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের পর প্রতিষ্ঠানটি ক্লড ফেবল ৫ ও মিথোস ৫-এর সেবা পুনর্বহালের কাজ শুরু করছে। ব্যবহারকারীদের ধৈর্যের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতাকারীদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছে কোম্পানিটি।
অনলাইনে ব্যাপকভাবে প্রচারিত যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের এক চিঠিতে বলা হয়, অ্যানথ্রপিক এখন আর এআই মডেলগুলোর জন্য রপ্তানি লাইসেন্স নিতে বাধ্য থাকবে না। তবে এর বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটি মডেলগুলোর নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি সক্রিয়ভাবে শনাক্ত ও মোকাবিলা করবে, ভবিষ্যতের উন্নত এআই মডেলের নিরাপত্তা মান নির্ধারণে সরকারের সঙ্গে কাজ করবে এবং কোনো ধরনের ক্ষতিকর বা অপব্যবহারের তথ্য পেলে তা সরকারকে জানাবে।
গত মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে অ্যানথ্রপিক বিদেশি নাগরিকদের, এমনকি প্রতিষ্ঠানের বিদেশি কর্মীদেরও, ক্লড ফেবল ৫ ও মিথোস ৫ ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করে দেয়। সে সময় প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করা হলেও নির্দিষ্ট কোনো কারণ সরকার জানায়নি। তবে কর্মকর্তাদের আশঙ্কা ছিল, ফেবল ৫-এ সম্ভাব্য নিরাপত্তাগত দুর্বলতা থাকতে পারে।
এর আগে গত শুক্রবার অ্যানথ্রপিক জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনা ও সুরক্ষার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মডেল দুটি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্যও সেবা পুনরায় চালুর লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে কাজ চলছে।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের এ সিদ্ধান্তকে প্রযুক্তি খাতে প্রত্যাশিত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এআই, ট্রাস্ট অ্যান্ড গভর্ন্যান্স সেন্টারের উপপরিচালক ফ্রান্সেসকো বাইলোর মতে, ফেবল ৫-এর নিরাপত্তা ভাঙার সক্ষমতা নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবতার তুলনায় অতিরঞ্জিত ছিল। তাঁর ভাষায়, সরকার শেষ পর্যন্ত বুঝতে পেরেছে যে এ ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে প্রযুক্তি খাতের জন্য জটিল নজির তৈরি করতে পারে এবং একই যুক্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের মডেলগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনতে হতো।
স্ট্যাবিলিটি এআই-এর সাবেক গবেষণা পরিচালক এবং বর্তমানে মেডিকেল এআই প্রতিষ্ঠান সোফন্টের প্রধান তানিশক আব্রাহামের মতে, সরকারের এ সিদ্ধান্ত এআই শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাঁর মতে, এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—ভবিষ্যতে প্রতিটি উন্নত এআই মডেল বাজারে আনার আগে কি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনুমোদন নিতে হবে? ওপেনএআই সম্প্রতি তাদের জিপিটি-৫.৬ মডেল সীমিত অংশীদারদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে উন্মুক্ত করার ঘোষণাও এ বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।
সূত্র: আলজাজিরা