চীন ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক আরও জোরালো করার অঙ্গীকার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে একটি অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। বুধবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বার্তায় কিম জং উন বেইজিংয়ের সাথে পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে তার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং একে একটি "অপরিবর্তনীয় ইচ্ছা" হিসেবে বর্ণনা করেন।
সম্প্রতি গত ৮ ও ৯ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দীর্ঘ সাত বছর পর উত্তর কোরিয়া সফর করেন। কিম জং উন এই সফরকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে একটি "ঐতিহাসিক মুহূর্ত" বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, সমাজতন্ত্রকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই ঐতিহাসিক বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করাই তাদের দল ও সরকারের প্রধান লক্ষ্য। শি জিনপিংয়ের এই সফরে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করতে একটি দূরদর্শী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, যার মধ্যে কূটনৈতিক, আইন প্রয়োগকারী ও সামরিক সহযোগিতার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার সাথে উত্তর কোরিয়ার সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক অনেক বৃদ্ধি পেলেও বেইজিং এখনো পিয়ংইয়ংয়ের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অংশীদার। তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯৮ শতাংশই সম্পন্ন হয় চীনের সাথে। ফলে দুই দেশের এই শীর্ষ বৈঠক এবং কিমের নতুন বার্তা বৈশ্বিক রাজনীতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
ইউক্রেনে আটক উত্তর কোরীয় যুদ্ধবন্দীদের নিয়ে আলোচনা
এদিকে ভিন্ন এক কূটনৈতিক তৎপরতায়, ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিলহা দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউনের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, এই বৈঠকে মূলত ইউক্রেন যুদ্ধে বন্দী হওয়া উত্তর কোরিয়ার সেনাদের ভাগ্য নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
২০২৫ সালে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতে বন্দী হওয়া দুই উত্তর কোরীয় সেনা মুক্তি পেলে দক্ষিণ কোরিয়ায় আশ্রয় নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী উত্তর কোরিয়ার নাগরিকরাও দেশটির নাগরিক হিসেবে গণ্য হন। ফলে সিউল প্রশাসন জানিয়েছে, যেকোনো যুদ্ধবন্দী দক্ষিণ কোরিয়ায় আসতে চাইলে তাকে স্বাগত জানানো হবে। এই বিষয়ে ইউক্রেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ইতিমধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে এবং চলতি সফরে তা আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
সূত্র : আলজাজিরা