সংবাদ শিরোনাম

সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের জন্মসূত্র নাগরিকত্ব আদেশ বাতিল

 প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:১৮ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের জন্মসূত্র নাগরিকত্ব আদেশ বাতিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার নির্বাহী আদেশকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে তা বহাল রাখতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ৬-৩ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে আদালত বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী দেশটির ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভের অধিকারী। এই রায়কে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নীতি ইংরেজি কমন ল, ১৮৬৮ সালে গৃহীত ১৪তম সংশোধনী এবং ১৮৯৮ সালের ঐতিহাসিক ইউনাইটেড স্টেটস বনাম ওয়ং কিম আর্ক মামলার রায়ের মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত। তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন এবং ভিন্নমত পোষণকারী বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক ব্যাখ্যা পরিবর্তনের পক্ষে পর্যাপ্ত ঐতিহাসিক বা আইনি ভিত্তি উপস্থাপন করতে পারেননি।

সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে প্রধান বিচারপতি রবার্টসের সঙ্গে একমত হন বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট, ব্রেট কাভানাহ এবং উদারপন্থী তিন বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেয়র, কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন ও এলেনা কেগান। তবে বিচারপতি ক্ল্যারেন্স থমাস, স্যামুয়েল আলিটো এবং নিল গরসাচ ভিন্নমত পোষণ করেন। তাঁদের মতে, ১৪তম সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য ছিল সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত দাসদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা এবং ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের কিছু প্রয়োগ সংবিধানের মূল ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে।

দায়িত্ব গ্রহণের দিন ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে ঘোষণা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী বৈধ মর্যাদাধারী কিংবা অনথিভুক্ত অভিবাসী বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না। তাঁর প্রশাসনের যুক্তি ছিল, সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীতে ব্যবহৃত “যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারের অধীন” বাক্যাংশটি কেবল মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের সন্তানদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

রায়ের পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, সিদ্ধান্তটি দেশের জন্য হতাশাজনক। তিনি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে কংগ্রেসকে দ্রুত নতুন আইন প্রণয়নের আহ্বান জানান এবং এ ধরনের উদ্যোগে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন। তবে আদালতের পর্যবেক্ষণে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বে মৌলিক পরিবর্তন আনতে কেবল আইন নয়, সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।

রায়ে বিচারপতি কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন বলেন, ১৪তম সংশোধনী শুধু সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত দাসদের জন্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকালীন সর্বজনীন সমতা ও নাগরিক অধিকারের নীতিকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। তাঁর মতে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহুদিন ধরেই মার্কিন রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের একটি মৌলিক ভিত্তি।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (এসিএলইউ) আইনজীবী সিসিলিয়া ওয়াং বলেন, এই রায় যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী প্রত্যেক শিশুর সাংবিধানিক অধিকারের পুনঃনিশ্চয়তা দিয়েছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের আদেশ কার্যকর হলে প্রতিবছর প্রায় আড়াই লাখ শিশু নাগরিকত্ববিহীন অবস্থায় জন্ম নিত এবং দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে একটি নতুন প্রজন্মের রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠী সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

সূত্র: আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement