সংবাদ শিরোনাম

বিতর্কিত পেনাল্টিতে ভেঙে গেল সেনেগালের বিশ্বকাপ স্বপ্ন

 প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩০ অপরাহ্ন   |   খেলাধুলা

বিতর্কিত পেনাল্টিতে ভেঙে গেল সেনেগালের বিশ্বকাপ স্বপ্ন

ক্রীড়া ডেস্ক:

সিয়াটলে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর নাটকীয় লড়াইয়ে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে বেলজিয়ামের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে সেনেগাল। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনার পর দেওয়া একটি পেনাল্টি সিদ্ধান্তকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সেই পেনাল্টি থেকেই বেলজিয়ামের জয়সূচক গোল আসে এবং ‘লায়ন্স অব তেরাঙ্গা’র বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে যায়।

বুধবারের ম্যাচে হন্ডুরাসের রেফারি সাঈদ মার্টিনেজ দ্বিতীয় অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ দিকে ভিএআর পর্যালোচনার পর বেলজিয়ামের পক্ষে পেনাল্টি দেন। সেনেগালের লামিন কামারা ও বেলজিয়ামের অধিনায়ক ইউরি টিলেমানসের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এই সিদ্ধান্ত আসে। তখন স্কোর ছিল ২-২ এবং ম্যাচটি টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছিল।

রেফারিং সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণে বিশেষায়িত প্ল্যাটফর্ম ‘আর্চিভো ভিএআর’ দাবি করেছে, ম্যাচটিতে ভিএআর অপ্রয়োজনীয়ভাবে হস্তক্ষেপ করেছে। তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়, টিলেমানস নিজেই পা বাড়িয়ে কামারার সামনে চলে আসেন এবং সেখান থেকেই সংস্পর্শের সৃষ্টি হয়। তাদের মতে, ঘটনাটি ভিএআর হস্তক্ষেপের মতো ছিল না এবং এটিকে ‘স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট রেফারিং ভুল’ হিসেবে বিবেচনা করারও সুযোগ ছিল না।

এই সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একজন সমর্থক লিখেছেন, “এটি শতভাগ ডাকাতি। সেনেগালকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এটি কীভাবে পেনাল্টি হতে পারে? বেলজিয়ামের এগিয়ে যাওয়ার কোনো যোগ্যতা নেই, এটি দুর্নীতি।” ক্রীড়াবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা স্নিকো ম্যাচটিকে ‘সাজানো’ বলে মন্তব্য করে লেখেন, “খেলাটি কারচুপি হয়েছে। সেনেগালের এখনই মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত ছিল।”

আরেক সমর্থকের ভাষ্য, “এটি কখনোই পেনাল্টি ছিল না। কামারা বল ক্লিয়ার করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু টিলেমানসই তার সামনে এসে পড়েন। বঞ্চিত হয়েছে সেনেগাল, বিদায় নেওয়ার কথা ছিল বেলজিয়ামের।”

স্প্যানিশ ক্রীড়া সাংবাদিক মানোলো লামা মন্তব্য করেন, “আফ্রিকা কাপ অব নেশনস তাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, আর এখন বিশ্বকাপেও সেনেগালের প্রতি সংহতির সুযোগ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।”

মিশরীয় সাংবাদিক মোহাম্মদ সাঈদ ঘটনাটিকে ২০২৫ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে সেনেগালের বিতর্কিত ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি লেখেন, শেষ মুহূর্তে সেনেগালের বিপক্ষে দেওয়া এই পেনাল্টি ছিল কঠিন এক পরীক্ষা। তার মতে, আফ্রিকা কাপের সেই ঘটনার পর যদি দল প্রত্যাহারসংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন না আসত, তবে একই ধরনের পরিস্থিতি আবারও তৈরি হতে পারত।

ক্রীড়াপ্রেমী ফারেস আহমেদও ২০২৫ সালের সেই আফ্রিকা কাপের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ফুটবল শিক্ষা দেয়। মরক্কোয় অনুষ্ঠিত সেই আসরের স্মৃতি যেন আবার ফিরে এসেছে। তবে এবার বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে দল প্রত্যাহারের ঝুঁকি নেওয়ার সুযোগ ছিল না।

আরেকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী লিখেছেন, “মরক্কোর বিপক্ষে ফাইনালে যখন স্পষ্ট পেনাল্টি হয়েছিল, তখন তারা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে আফ্রিকান ফুটবলের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছিল। কিন্তু এবার অস্পষ্ট একটি পেনাল্টিতে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর তারা নীরব, কারণ এবার ঘটনাটি পশ্চিমা বিশ্বের মঞ্চে ঘটেছে।”

বিতর্কিত পেনাল্টি পাওয়ার পর ইউরি টিলেমানস স্পটকিক থেকে গোল করে বেলজিয়ামকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এবং অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন করে দলকে শেষ ষোলোতে পৌঁছে দেন।

তবে ম্যাচের অধিকাংশ সময়ই নিয়ন্ত্রণে ছিল সেনেগাল। প্রায় ৮৫ মিনিট পর্যন্ত দুই গোলের লিড ধরে রেখে তারা শেষ ষোলো নিশ্চিত করার দ্বারপ্রান্তে ছিল। কিন্তু মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে সবকিছু বদলে যায় এবং বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয় আফ্রিকার প্রতিনিধিদের।

ম্যাচ শেষে হতাশা লুকাতে পারেননি সেনেগাল ডিফেন্ডার ক্রেপিন দিয়াত্তা। তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বমঞ্চে আমাদের ফুটবলের ইতিহাসের সুন্দর অধ্যায় লেখার খুব কাছাকাছি ছিলাম। কিন্তু আমাদের মেনে নিতে হবে যে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে পারিনি।”

মিডফিল্ডার হাবিব দিয়ারা বলেন, “প্রথমার্ধে আমরা ভালো খেলেছি, কিন্তু সেটি যথেষ্ট ছিল না। একটি ম্যাচ ৯০ মিনিটের। আমরা ভীষণ বিধ্বস্ত। কী বলব বুঝতে পারছি না। মাঠে নেমে সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু আমরা তা করতে পারিনি। এজন্য দায় আমাদেরই।”

Advertisement
Advertisement
Advertisement