বিশ্বকাপের ১০০০তম ম্যাচে ঐতিহাসিক জয় জাপানের

 প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ন   |   খেলাধুলা

বিশ্বকাপের ১০০০তম ম্যাচে ঐতিহাসিক জয় জাপানের


ক্রীড়া প্রতিবেদক


নতুন এক ইতিহাস গড়েছে জাপান, জিতেছে ইতিহাস গড়া ম্যাচে| হাজারতম ম্যাচ বলে একটা আলাদা গুরুত্ব ছিল জাপান-তিউনিশয়ার মধ্যকার লড়াই| তবে এই ম্যাচে আফ্রিকার দেশটি মোটেও পাত্তা পায়নি এশিয়ার প্রতিনিধির কাছে| ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সূর্যোদয়ের দেশটি| প্রথম বাঁশি থেকে হাজারতম ম্যাচ, বিশ্বকাপ যেন সময়ের সঙ্গে বেড়ে ওঠা এক জীবন্ত ইতিহাস হিসেবে| এর আগে এখানে মহাকাব্য লিখেছেন পেলে, ম্যারাডোনা, জিদান, রোনালদো, মেসি ও এমবাপ্পেদের মতো কিংবদন্তিরা| এই ম্যাচটি কেবল একটি গ্রুপ ম্যাচই নয়, বরং প্রায় এক শতাব্দীর ফুটবল ইতিহাসকে ছুঁয়ে দেখার আরেকটি মহামুহূর্ত হিসেবেও ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে| বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে এশিয়ান কোন দল কখনো ৪টি গোল করতে পারেনি, জাপানই প্রথম দল যারা এ কীর্তি গড়ল| এই ইতিহাস গড়ার পথে ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দমনীয় ফুটবল খেলেছে জাপান| যার ফল পেয়েছে ম্যাচের শেষে এসে|  ম্যাচের শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় জাপান| দ্রুত গোল করে চাপ বাড়িয়ে দেয় তারা|


পুরো ম্যাচজুড়ে আক্রমণ আর দাপুটে ফুটবলে তিউনিসিয়াকে কোনোভাবেই দাঁড়াতে দেয়নি এশিয়ান পরাশক্তি| বিশ্বকাপের মঞ্চে আরও একবার নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিল জাপান| তিউনিসিয়ার বিপক্ষে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে তারা| অন্য ম্যাচে ১২ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে জার্মানি| ২০১৪ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর হঠাৎই ছন্দ হারিয়ে েেফলেছিল জার্মানি| ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া দলটি অবশেষে কাটাল সেই দুঃ¯^প্ন| ১২ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিল চারবারের চ্যাম্পিয়নরা| টরন্টো স্টেডিয়ামে শেষ বাঁশি বাজার পর ¯^স্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে জার্মানি| দীর্ঘ ১২ বছরের অপেক্ষা শেষ করে আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠেছে তারা| ২০১৪ সালে শিরোপা জয়ের পর ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল জার্মানিকে| সেই ব্যর্থতার ভার নিয়েই এবারের আসরে নেমেছিল দলটি| আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ম্যাচটি তাই ছিল তাদের জন্য বড় পরীক্ষা|


ম্যাচের শুরুতে সেই পরীক্ষায় হোঁচটই খেয়েছিল জার্মানি| ৩০তম মিনিটে ফ্রাঙ্ক কেসির গোলে এগিয়ে যায় আইভরি  কোস্ট| দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকে জার্মানিকে চাপে রেখেছিল আফ্রিকার দলটি| এই ম্যাচের আগে বিশ্বকাপে সর্বশেষ ১০ ম্যাচে আগে গোল হজম করে মাত্র একবার জিতেছিল জার্মানি| সেই পরিসংখ্যান বলছিল, ম্যাচটি তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে| তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় দৃশ্যপট| কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান ৬০ মিনিটে একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন এনে ম্যাচে নতুন গতি যোগ করেন| আলেকজান্ডার পাভলোভিচ, লিরয় সানে, জামাল মুসিয়ালার জায়গায় নামেন নাদিয়েম আমিরি, জেমি লেভেলিং, ডেনিজ উন্দাভ| ৬৮তম মিনিটে আমিরির ক্রস থেকে দারুণ ভলিতে সমতা ফেরান উন্দাভ| এরপর ম্যাচ গড়ায় নাটকীয় পরিণতির দিকে| যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে ফেলিক্স এনমেচার পাস ধরে বক্সের ভেতরে ঘুরে দাঁড়িয়ে জোরালো শটে জয়সূচক গোল করেন উন্দাভ| তাতেই ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় জার্মানির| আইভরি কোস্টের জন্য এটি ছিল হতাশার ম্যাচ|


এদিকে ইকুয়েডরকে একাই থামিয়ে দিলেন কুরাসাওয়ের গোলরক্ষক রোম, করেছেন বিশ্ব রেকর্ডও| অভিষেক বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়েছে নবাগত দেশটি| শক্তিশালী ইকুয়েডরের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে পয়েন্ট অর্জন করেছে দলটি| আর এই সাফল্যের নেপথ্যের প্রধান নায়ক গোলরক্ষক এলয় রোম| ৩৭ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক যেন নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ম্যা েেখললেন| ম্যাচজুড়ে ইকুয়েডরের একের পর এক আক্রমণ রুখে দিয়ে গোলবারের নিচে দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান তিনি| তার অসাধারণ ˆনপুণ্যে হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটিকে| পুরো ম্যাচে ইকুয়েডর ২৮টি শট নেয়| কিন্তু কোনো প্রচেষ্টাই জালে জড়াতে পারেনি| কারণ একাই ১৫টি সেভ করে প্রতিপক্ষের সব পরিকল্পনা ভেস্তে দেন রোম| তার এই কীর্তিতে বিশ্বকাপের ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় যুক্ত হয়েছে| ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে ৯০ মিনিটের ম্যাচে কোনো গোলরক্ষকের সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড এখন রোমের দখলে| এর আগে ১৯৭৮ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পেরুর গোলরক্ষক র‌্যামন কুইরোগা ১৩টি সেভ করেছিলেন|


তবে বিশ্বকাপের এক ম্যাচে সর্বাধিক সেভের সামগ্রিক রেকর্ড এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ডের দখলে| ২০১৪ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়সহ ১২০ মিনিটের ম্যাচে তিনি ১৬টি সেভ করেছিলেন| রোম সেই রেকর্ড স্পর্শ করতে না পারলেও মাত্র ৯০ মিনিটে ১৫টি সেভ করে নিজের কীর্তিকে আরও বিশেষ করে তুলেছেন| অন্যদিকে, কুরাসাওয়ের আক্রমণভাগ খুব েেবশি সুযোগ ˆতরি করতে না পারলেও দলের রক্ষণভাগকে নেতৃত্ব দিয়ে ম্যাচ থেকে মূল্যবান এক পয়েন্ট এনে দেন রোম| 

Advertisement
Advertisement
Advertisement