বিশ্বকাপে একসঙ্গে জ্বলে উঠলেন মেসি, এমবাপ্পে ও হালান্ড

 প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৪৩ অপরাহ্ন   |   খেলাধুলা

বিশ্বকাপে একসঙ্গে জ্বলে উঠলেন মেসি, এমবাপ্পে ও হালান্ড


ক্রীড়া প্রতিবেদক:

লিওনেল মেসি, কিলিয়েন এমবাপ্পে ও আর্নিং হালান্ড, বিশ^ ফুটবলের সময়ের তিন তারকা। বিশ^কাপ ফুটবলে একই সাথে জ¦লে ওঠলেন এই তিন তারকা। তার মধ্যে প্রথমবারের মতো বিশ^কাপে হ্যাট্টিক করলেণ মেসি। অন্যদিনে জোড়া গোল করেছেন এমবাপ্পে ও হালান্ড। এই তিনত্রয়ী নৈপুন্যে জয় দিয়ে আসর শুরু করেছে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও নরওয়ে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে বিশ^কাপের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের অভিশাপ কাটালেন মেসি। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে এলএম টেনের হ্যাটট্রিকে অভিশাপ কেটেছে আর্জেন্টিনার। ইতিহাস বলে, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরের বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে বরাবরই পরাজিত থাকে দলটি। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই ইতিহাস মুছে ফেললেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। কানসাস সিটিতে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করে আর্জেন্টিনা। ইতিহাস অনুযায়ী, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরের বিশ্বকাপে গেলেই প্রথম ম্যাচে মুখ থুবড়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। এর আগে যতবারই দলটি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের আসরে পা রেখেছে, ততবারই প্রথম ম্যাচে অঘটনের শিকার হয়েছে। 

১৯৭৮ সালে ঘরের মাঠে প্রথম বিশ্বকাপ জেতে আলবিসেলেস্তেরা। চার বছর পর ১৯৮২ সালে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু উদ্বোধনী ম্যাচেই বেলজিয়ামের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়। এরপর ১৯৮৬ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার হাত ধরে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতে আর্জেন্টিনা। পরের আসরেও (১৯৯০ ফিফা বিশ্বকাপ) প্রথম ম্যাচেই ক্যামেরুনের কাছে ১-০ গোলে হারে তারা। এমনকি ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার যাত্রার প্রথম ম্যাচে সৌদির কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু এবার আর তেমনটি হয়নি। দীর্ঘদিনের অভিশাপ কাটিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত জয় পেল গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। এর মধ্য দিয়ে পুরোনো বিব্রতকর ইতিহাস মুছে ফেলল লিওনেল মেসি বাহিনী। এদিকে গতবারের রানার্সআপ ফ্রান্স  সেনেগালকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে। নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এই ম্যাচে প্রথমার্ধে চরম চাপে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের জাত চিনিয়ে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলে নেয় দিদিয়ের দেশমের দল। 

ম্যাচের শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় জোড়া গোল করে ফ্রান্সের জয়ের নায়ক রিয়াল মাদ্রিদ তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। ম্যাচের শুরু থেকেই কোনো রকম ভয়ডর ছাড়া আক্রমণ করতে থাকে আফ্রিকার পরাশক্তি সেনেগাল। ইদ্রিসা গেয়ি এবং পাপে গেয়ির দুর্দান্ত মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণের কারণে ফ্রান্সের আক্রমণভাগ বলই পাচ্ছিল না। ২৪ মিনিটে ম্যাচের প্রথম সুবর্ণ সুযোগ পায় সেনেগাল। এমবাপ্পে বল হারানোর পর পাপে গেয়ির পাস থেকে বল পান নিকোলাস জ্যাকসন. তাঁর বাঁ পায়ের দারুণ শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে এবং বলটি ফরাসি কিপার মাইক মাইনানের পায়ে লেগে কর্নার হয়। ভাগ্য সহায় থাকায় সেবার বেঁচে যায় ফ্রান্স। বিরতির আগে সাদিও মানের চমৎকার ক্রস থেকে ইসমাইলা সার গোলবারের ঠিক সামনে ফাঁকায় বল পেয়েও ওভারহেড শট মেরে বসেন, যা বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ফলে প্রথমার্ধ গোলশূন্য (০-০) শেষ হয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই খোলস ছেড়ে বের হয় ফ্রান্স। তরুণ উইঙ্গার দেজিরে দুয়ে এবং মাইকেল অলিসের কল্যাণে একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে তারা।

এদিকে আরেক ম্যাচে বাবার স্মৃতিবিজড়িত যুক্তরাষ্ট্রে হালান্ডের জোড়া গোলে বড় জয় পেয়েছে নরওয়ে। ঠিক ৩২ বছর আগে, ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে নরওয়ের জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছিলেন আলফ-ইঙ্গে হালান্ড। সময়ের পরিক্রমায় ২০২৬ সালে সেই যুক্তরাষ্ট্রেই আরেকটি বিশ্বকাপ। এবার বাবার রেখে যাওয়া মঞ্চে রাজসিক অভিষেক হলো ছেলে আর্লিং হালান্ডের। আধুনিক ফুটবলের এই গোলমেশিনের জোড়া গোলে ইরাককে ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরার উপলক্ষটা রাঙাল নরওয়ে। জিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে এশিয়ান পরাশক্তি ইরাক দারুণ লড়াইয়ের আভাস দিলেও ম্যানচেস্টার সিটি তারকার অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের সামনে শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। ম্যাচের শুরু থেকেই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ছিলেন নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার হালান্ড। তবে ম্যাচের প্রথম বড় সুযোগটি তৈরি করেছিল ইরাকই। পঞ্চম মিনিটে বক্সের ভেতর বল পেয়ে ইরাকি স্ট্রাইকার আয়মান হুসেইন খুব কাছ থেকে হেড নিলেও তা ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপর ২০তম মিনিটে হুলিয়ান রাইয়ারসনের ক্রস থেকে ফাঁকায় বল পেয়েও অবিশ্বাস্যভাবে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি হালান্ড। তাঁর নেওয়া হেডটি অনেক উঁচু দিয়ে গ্যালারিতে চলে গেলে সহজ সুযোগ নষ্ট হয় নরওয়ের। তবে গোলমেশিন হালান্ডকে বেশিক্ষণ আটকে রাখা যায়নি।

Advertisement
Advertisement
Advertisement