শিশু আয়াত হত্যা মামলায় প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড

 প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:২০ অপরাহ্ন   |   চট্টগ্রাম

শিশু আয়াত হত্যা মামলায় প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত শিশু আয়াত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছে আদালত। বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস প্রধান আসামি মো. আবির আলীকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। এই রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়, কারণ এটি ছিল সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে নির্মম ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি।

সাড়ে তিন বছর আগে মাত্র পাঁচ বছরের শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তার মরদেহ ছয় টুকরো করে সাগরপাড় ও খালের পাশে ফেলে দেওয়া হয়। এই ভয়াবহ ঘটনার পর পুরো দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়।

২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের বন্দরটিলা এলাকায় আয়াত নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তে উঠে আসে, আয়াতকে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে অপহরণ করেছিলেন তাদের বাসার ভাড়াটে আবির আলী। পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে তিনি শিশুটিকে হত্যা করেন। গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আবির হত্যার কথা স্বীকার করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি জানান, মামলায় মোট ৩৩ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআই অভিযোগপত্র জমা দেয়। এতে আবির আলী ও তার ১৭ বছর বয়সী এক বন্ধুকে আসামি করা হয়। কিশোর হওয়ায় দ্বিতীয় আসামির নাম প্রকাশ করা হয়নি। তার বিচার শিশু আদালতে চলছে।

এই মামলার রায়কে অনেকেই বিচার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমাজ ও রাষ্ট্রকে আরও সচেতন হতে হবে। অপরাধীরা যাতে শাস্তি এড়াতে না পারে, সে জন্য দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া চালু রাখা জরুরি।

আয়াতের পরিবার আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছেন, "আমাদের মেয়েকে আর ফেরানো যাবে না, কিন্তু এই রায় কিছুটা হলেও ন্যায়বিচারের স্বস্তি এনে দিয়েছে।"

এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব।

Advertisement
Advertisement
Advertisement