শাহপরীর দ্বীপে আতঙ্ক: এক সপ্তাহে উপকূলে ভেসে এলো পাঁচ অজ্ঞাত মরদেহ, রহস্য ঘিরে নানা প্রশ্ন

 প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন   |   চট্টগ্রাম

শাহপরীর দ্বীপে আতঙ্ক: এক সপ্তাহে উপকূলে ভেসে এলো পাঁচ অজ্ঞাত মরদেহ, রহস্য ঘিরে নানা প্রশ্ন

টেকনাফ প্রতিনিধি:

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তের শেষ প্রান্ত শাহপরীর দ্বীপ। বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদীর মিলনস্থলের এই জনপদে জেলেদের জীবন-জীবিকা নির্ভর করে নদী ও সাগরের ওপর। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মাছের বদলে উপকূলে ভেসে আসছে একের পর এক অজ্ঞাত মানুষের মরদেহ। এতে পুরো দ্বীপজুড়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ, আতঙ্ক ও নানা ধরনের জল্পনা।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত এক সপ্তাহে টেকনাফ উপকূল ও নাফ নদীর বিভিন্ন অংশ থেকে মোট পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে রয়েছে দুই নারী, এক পুরুষ, একটি কঙ্কাল এবং সর্বশেষ আরও এক অজ্ঞাত যুবকের লাশ। অধিকাংশ মরদেহ দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় বিকৃত হয়ে গেছে, ফলে তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

রোববার (সকাল সাড়ে ১১টার দিকে) শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট সংলগ্ন বিজিবি বিওপির সামনে নদীর তীরে সর্বশেষ মরদেহটি ভেসে আসে। আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ওই যুবকের পরনে ছিল গাঢ় নীল রঙের হাফ প্যান্ট ও হালকা সবুজ জার্সি। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে মরদেহটি ফুলে-ফেঁপে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় পরিচয় নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে।

শাহপরীর দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সনজীব জানান, গত এক সপ্তাহে ধারাবাহিকভাবে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে নারী-পুরুষের পাশাপাশি একটি কঙ্কালও রয়েছে। সব মরদেহ ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গত এক বছরে দায়িত্ব পালনকালে শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় প্রায় আটটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মৃত্যুর উৎস নিয়ে নানা আলোচনা

একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ধারণা তৈরি হয়েছে। একটি ধারণা হলো, নাফ নদীর ওপারে মিয়ানমারের মংডু অঞ্চলে চলমান সংঘাত, বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ স্রোতের টানে এদিকে ভেসে আসতে পারে।

অন্যদিকে, মানবপাচারের শিকার হয়ে সাগরপথে মালয়েশিয়াগামী ট্রলারডুবির ঘটনাও সম্ভাব্য কারণ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর এই মৌসুমে অবৈধভাবে সাগরপথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা বাড়ে। এছাড়া সীমান্তবর্তী নাফ নদীকে কেন্দ্র করে মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধচক্র সক্রিয় থাকায় সেই দিকটিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।

পরিচয় মিলছে না, অভিযোগও নেই

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া পাঁচটি মরদেহের কোনো পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে কেউ নিখোঁজ সংক্রান্ত অভিযোগও করেননি। তবুও পুলিশ সম্ভাব্য সব উপায়ে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে।

সীমান্তবর্তী এই জনপদে একের পর এক পরিচয়হীন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অস্বস্তি বাড়ছে। প্রশাসনের আশা, ময়নাতদন্ত, আলামত বিশ্লেষণ এবং তদন্তের মাধ্যমে এসব মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য শিগগিরই উদঘাটন করা সম্ভব হবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement