আকস্মিক বন্যায় চট্টগ্রামের কৃষি ও মৎস্যখাতে বিপর্যয়, ক্ষতি ছাড়াতে পারে শতকোটি টাকা

 প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন   |   চট্টগ্রাম

আকস্মিক বন্যায় চট্টগ্রামের কৃষি ও মৎস্যখাতে বিপর্যয়, ক্ষতি ছাড়াতে পারে শতকোটি টাকা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় চট্টগ্রামের কৃষি ও মৎস্যখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলা মৎস্য অধিদপ্তর ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১৫টি উপজেলার ১৫৩টি ইউনিয়নে প্রায় ১০ হাজার পুকুর, দিঘি ও চিংড়ি ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ১৪ হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রস্তুত করা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বন্যায় ৯ হাজার ৯৩৩টি পুকুর ও দিঘি, ৩২০টি চিংড়ি ঘের এবং প্রায় ৪ হাজার ১১২ হেক্টর জলাশয়ের মাছচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালী উপজেলায়। সেখানে প্রায় ২ হাজার ৫০০টি পুকুর, ৩১০টি চিংড়ি ঘের এবং প্রায় ১ হাজার ৯৭০ হেক্টর জলাশয়ের মাছ ভেসে গেছে। এছাড়া সাতকানিয়ায় প্রায় ৪৬৬ হেক্টর জলাশয়ের মাছচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে যে হিসাব পাওয়া গেছে তা কেবল প্রাথমিক। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র আরও স্পষ্ট হবে এবং তখন ক্ষতির পরিমাণ শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

মৎস্যখাতের পাশাপাশি কৃষিতেও নেমে এসেছে বড় ধাক্কা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, বন্যায় ৮ হাজার ৭৬৮ হেক্টর আউশ ধান, ৬২১ দশমিক ৬৬ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ৪ হাজার ৯০৭ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৪ হাজার ২৯৬ দশমিক ৬৬ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতির মুখে পড়েছে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সীতাকুণ্ড ও সন্দ্বীপ উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। বাঁশখালীতে প্রায় ২ হাজার ১৫০ হেক্টর, চন্দনাইশে ২ হাজার ১২০ হেক্টর, সীতাকুণ্ডে ১ হাজার ৫০০ হেক্টর এবং সন্দ্বীপে ১ হাজার হেক্টর আউশ ধানের জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা আপ্রুমারমা বলেন, ধানের পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষেতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চন্দনাইশে প্রায় ৮৩০ হেক্টর, সীতাকুণ্ডে ৭০০ হেক্টর, সন্দ্বীপে ৬০০ হেক্টর, ফটিকছড়িতে ৪৭৫ হেক্টর, সাতকানিয়ায় ৪৬০ হেক্টর এবং বাঁশখালীতে ৪০০ হেক্টর জমির সবজি আবাদ নষ্ট হয়েছে।

তিনি জানান, বন্যার পানি সরে গেলে মাঠপর্যায়ে বিস্তারিত জরিপ চালিয়ে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে। এদিকে কৃষক ও মৎস্যচাষিরা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তারা আবার উৎপাদনে ফিরতে পারেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement