চট্টগ্রামে আজ শুরু বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজ: আত্মবিশ্বাসে ভর করে মাঠে টাইগাররা
বাংলাদেশের ক্রিকেটে আবারও নতুন উত্তেজনা। ওয়ানডে সিরিজ শেষ হওয়ার পর এবার শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি লড়াই। বুধবার দুপুর ২টায় চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। ঘরের মাঠে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে আত্মবিশ্বাসী টাইগাররা এবার শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পাচ্ছে।
বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ঘরের মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে সমতা অর্জন এবং বিদেশের মাটিতে উল্লেখযোগ্য জয় দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। এবার অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশ্বমানের দলের বিপক্ষে সিরিজ শুরু হওয়ায় ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে।
পেস আক্রমণই হতে পারে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভরসা। ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছেন তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান। তাদের সঙ্গে রয়েছেন নাহিদ রানা এবং ফর্মে থাকা শরিফুল ইসলাম। এই বিভাগে একাদশ নির্বাচনই টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ব্যাটিংয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও ওপেনিংয়ে তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসানকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অধিনায়ক লিটন দাস পুরোপুরি ফিট কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও তার উপস্থিতি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পারভেজ হোসেন ইমনও অসুস্থতা কাটিয়ে ফিরতে পারেন। মধ্যক্রমে তাওহিদ হৃদয় ও শামীম হোসেনের ওপর বড় দায়িত্ব থাকবে। অলরাউন্ডার শেখ মেহেদী হাসান ও স্পিনার রিশাদ হোসেন চট্টগ্রামের কন্ডিশনে কার্যকর হতে পারেন।
অস্ট্রেলিয়া দলে ফিরেছেন অধিনায়ক মিচেল মার্শ, যা সফরকারীদের জন্য বড় স্বস্তি। অভিজ্ঞ টিম ডেভিড, অ্যাডাম জাম্পা, নাথান এলিস ও স্পেনসার জনসনও রয়েছেন স্কোয়াডে। তরুণ ব্যাটার নিখিল চৌধুরী অভিষেকের সুযোগ পেতে পারেন বলে আলোচনা চলছে। তাদের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ ও বৈচিত্র্যময় বোলিং আক্রমণ বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
চট্টগ্রামের উইকেট সাধারণত ব্যাটসম্যানদের সহায়তা করে। তাই বড় স্কোরের ম্যাচ দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশকে জিততে হলে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ধারাবাহিকতা দেখাতে হবে। দর্শকদের জন্য এটি হতে যাচ্ছে এক জমজমাট লড়াই, যেখানে প্রতিটি মুহূর্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়বে।
সম্ভাব্য একাদশ
বাংলাদেশ: সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, লিটন দাস (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহিদ হৃদয়, শামীম হোসেন পাটোয়ারী, শেখ মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা/শরিফুল ইসলাম।
অস্ট্রেলিয়া: মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জশ ইংলিস, কুপার কনোলি, ম্যাট রেনশ, নিখিল চৌধুরী/জোয়েল ডেভিস, টিম ডেভিড, অ্যারন হার্ডি, জাভিয়ের বার্টলেট, নাথান এলিস, স্পেনসার জনসন, অ্যাডাম জাম্পা।