রেজাই হলেন ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা

 প্রকাশ: ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

রেজাই হলেন ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান মোহসেন রেজাইকে দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) নতুন সচিব নিয়োগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ওই কাউন্সিলে প্রতিনিধি হিসেবেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

রোববার এক ডিক্রিতে মোজতবা খামেনি রেজাইকে এসএনএসসিতে নিজের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেন। ডিক্রিতে ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞ প্রবীণ হিসেবে রেজাইয়ের দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করা হয়।

ডিক্রিতে খামেনি বলেন, রেজাইয়ের মূল্যবান অভিজ্ঞতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে এসএনএসসিতে নিজের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো।

রেজাই ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত আইআরজিসির কমান্ডার ছিলেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধের বড় একটি সময় তিনি বাহিনীটির নেতৃত্ব দেন। বর্তমানে তিনি খামেনির জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা এবং দেশটির এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

খামেনির ডিক্রিতে এসএনএসসির আগের সচিব ও কাউন্সিলে সর্বোচ্চ নেতার একজন প্রতিনিধি মোহাম্মদ বাঘের জোলঘদরকে ‘দিনরাত নিরলস প্রচেষ্টার’ জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়। তবে তিনি সচিবের পদ ছাড়ছেন কি না, সে বিষয়ে ডিক্রিতে কিছু বলা হয়নি।

এর কিছুক্ষণ পর আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানায়, প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের দপ্তরের বরাত দিয়ে রেজাইকেই এসএনএসসির সচিব করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্টের দপ্তরের যোগাযোগ ও তথ্যবিষয়ক উপপ্রধান তাবাতাবাই বলেন, এসএনএসসির সচিব হিসেবে জোলঘদরের পদত্যাগ এবং নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের ডিক্রিতে রেজাইকে নতুন সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ইরানের নিরাপত্তা নীতির গুরুত্বপূর্ণ পদ

এসএনএসসি ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা। দেশটির নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি সমন্বয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামরিক ও গোয়েন্দা কাঠামোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই কাউন্সিল একত্র করে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট কাউন্সিলটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে সর্বোচ্চ নেতা এতে দুজন প্রতিনিধি নিয়োগ দেন।

জোলঘদর মার্চে এসএনএসসির সচিবের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এর এক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় আলী লারিজানি নিহত হন। এরপর জোলঘদর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন।

লারিজানি ২০২৫ সালের আগস্টে আবার এসএনএসসির সচিবের দায়িত্বে ফিরেছিলেন। এর আগে ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্তও তিনি এই পদে ছিলেন। ২০০৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি ইরানের সংসদ স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন।

জোলঘদরের পদত্যাগ নিয়ে জল্পনা

রেজাইয়ের নিয়োগের আগে কয়েক দিন ধরেই জোলঘদরের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছিল।

রোববার তাসনিম রেজাইকে এসএনএসসিতে খামেনির প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগের খবর প্রকাশের পর তা সরিয়ে নেয়। প্রতিবেদনটি কেন সরানো হয়েছে, তা জানায়নি সংবাদমাধ্যমটি। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রেজাই ও সাঈদ জলিলি এসএনএসসিতে সর্বোচ্চ নেতার দুই প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সংস্কারপন্থী সংবাদপত্র সাযানদেগি শুক্রবার জানায়, জোলঘদর পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাঁকে পদে থাকার অনুরোধ করেছেন।

এর এক দিন পর পেজেশকিয়ান জোলঘদরের পদত্যাগের প্রস্তাব দেওয়ার খবর অস্বীকার করেননি। তিনি বলেন, ‘কিছু মতপার্থক্য’ তৈরি হয়েছে এবং সেগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে।

এর আগে জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা ও খামেনির আত্মীয় মোহাম্মদ বাঘের খাররাজিও জানিয়েছিলেন, জোলঘদরের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন মোহসেন রেজাই।

Advertisement
Advertisement
Advertisement