সংবাদ শিরোনাম

খাগড়াছড়িতে টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, সাজেক-লংগদু সড়কে যান চলাচল বন্ধ

 প্রকাশ: ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০০ অপরাহ্ন   |   চট্টগ্রাম

খাগড়াছড়িতে টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, সাজেক-লংগদু সড়কে যান চলাচল বন্ধ

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়িতে রাতভর ভারী বৃষ্টিপাতে চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি দ্রুত বেড়ে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। এতে খাগড়াছড়ি শহরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল এবং দীঘিনালা উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি ঢুকে পড়েছে বসতঘর ও কৃষিজমিতে। বন্যার পানিতে সড়ক ডুবে যাওয়ায় দীঘিনালা থেকে সাজেক ও লংগদু রুটে যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে।

খাগড়াছড়ি আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ১২টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক দ্রুত বেড়ে যায়।

পানি বাড়ার ফলে খাগড়াছড়ি শহরের কাঁচাবাজার, মুসলিমপাড়া, গরুর বাজার, শান্তিনগর এবং খাগড়াছড়ি গেটসংলগ্ন এলাকাসহ বেশ কিছু নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

দীঘিনালা উপজেলার মেরুং, কবাখালী ও বেয়োলখালী এলাকার নিম্নাঞ্চলও পানিতে ডুবে গেছে। দীঘিনালা-মেরুং সড়কের কয়েকটি অংশ পানির নিচে চলে যাওয়ায় যান চলাচলে তৈরি হয়েছে প্রতিবন্ধকতা। একই সঙ্গে অনেক বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় স্থানীয়দের ভোগান্তি বেড়েছে।

হঠাৎ পানি বৃদ্ধির কারণে অনেক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় কেউ কেউ আশপাশের স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। বিশেষ করে নারী, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে সড়ক ডুবে যাওয়ায় দীঘিনালা-সাজেক এবং দীঘিনালা-লংগদু সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে এসব রুটের যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানিয়েছেন, গভীর রাতে কয়েক ঘণ্টার ভারী বর্ষণের কারণে খাগড়াছড়ি শহর, আশপাশের এলাকা ও দীঘিনালার নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সকাল থেকেই মাঠে কাজ করছেন।

তিনি জানান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেওয়া পানিবন্দি মানুষের জন্য সকাল থেকেই খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রেড ক্রিসেন্টসহ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সহায়তায় ঝুঁকিতে থাকা নারী, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে নেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় জেলা প্রশাসনের সরকারি তহবিল থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতিটিকে আকস্মিক বন্যা বা ফ্ল্যাশ ফ্লাডজনিত সাময়িক দুর্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত কমে গেলে এবং নদীর পানি নেমে গেলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে বলে আশা করছে প্রশাসন।