প্রথমবার আসিয়ান কাপে মাঠে নামছে বাংলাদেশ
ছবি -সংগৃহীতক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রথমবারের মতো ফিফা আসিয়ান কাপে শুক্রবার মাঠে নামছে বাংলাদেশ দল। গ্রুপের সবচেয়ে নিচে থাকা দল হিসেবে মাঠে নামলেও টুর্নামেন্টে ভালো করার বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। প্রথমবারের মতো হতে যাওয়া টুর্নামেন্টের ডিভিশন-১-এ আটটি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। ‘এ’ গ্রুপে আছে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুর। ‘বি’ গ্রুপে ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইন। ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের লক্ষ্যের কথা জানিয়ে জামাল বলেছেন, ‘অবশ্যই এই টুর্নামেন্টে ভালো করতে এবং ভালো পারফর্ম করতে আমাদের প্রত্যাশা আছে। জাকার্তায় বড় দর্শকের সামনে খেলার জন্য আমরা সত্যিই মুখিয়ে আছি।’ বর্তমানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৮১তম স্থানে বাংলাদেশ। শক্তিমতা বিবেচনায় গ্রুপের তিনটি দলই এগিয়ে। বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার ফিফা র্যাঙ্কিং ১১৮, মালয়েশিয়ার ১৩৬ ও সিঙ্গাপুর ১৪৮ নম্বর অবস্থানে। গ্রুপে বাংলাদেশের অবস্থানের বাস্তবতাটা ভালোই জানেন জামাল, ‘আমরা জানি, গ্রুপে আমরাই সবচেয়ে নিচের র্যাঙ্কিংয়ের দল। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরের পর আমাদের অবস্থান। কিন্তু আমাদের নিজেদের প্রত্যাশা আছে, দেশেরও প্রত্যাশা আছে। আমরা তিন বা চার পয়েন্ট পাওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছি’।
মালয়েশিয়া ম্যাচের পর ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর এবং ১ অক্টোবর আয়োজক ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি খেলবে ফাইনালে। আর দুই গ্রুপের রানার্সআপদের মধ্যে হবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। এদিকে দলে হামজাদের বোঝাপড়া তৈরির চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ কোচের। আসিয়ান কাপের দলে প্রবাসী সব খেলোয়াড়ই যোগ দিয়েছেন। সবাইকে নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ দল। সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলনে হামজা চৌধুরী। এবার খেলোয়াড়দের বোঝাপড়া ঠিক করাই কোচ টমাস ডুলির চ্যালেঞ্জ। আসিয়ান কাপের আগে অবশেষে পূর্ণাঙ্গ দল পেয়েছেন থমাস ডুলি। হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, ফারহান আলী ওয়াহিদ ও সোহেল রানাও দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু স্বস্তির সঙ্গে চাপও আছে বাংলাদেশের কোচের। প্রথম ম্যাচের আগে পুরো দল নিয়ে অনুশীলনের সুযোগ মাত্র দুই দিন। এ অল্প সময়েই নতুন-পুরোনোদের বোঝাপড়া তৈরি করে দলকে ম্যাচের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।
জাকার্তার জিবিকে অ্যারেনার প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডে পরিপূর্ণ দল নিয়ে অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ। ওয়ার্মআপ ও স্ট্রেচিংয়ের পর ফিটনেস ও রিকভারি, শেষ ভাগে কৌশল নিয়ে কাজ করেছেন ডুলি। কয়েক মাস পর জাতীয় দলের সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলনে ফিরে শমিত সোমের চোখে দলকে অবশ্য বেশ ‘শার্প’ মনে হয়েছে। অনুশীলন শেষে এই মিডফিল্ডার বলেছেন, ‘সবার সঙ্গে আবার খেলতে খুব ভালো লাগছে, কয়েক মাস পর। দলকে খুব শার্প (ছন্দে থাকা) মনে হচ্ছে, ট্রেনিংও খুব ভালো হয়েছে। মাঠটাও খুব সুন্দর ছিল। আশা করি আমরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ এদিকে দলের সবচেয়ে বড় তারকা হামজা চৌধুরী প্রতিপক্ষকে ভয় পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়ার বেশ কিছুদিন ধরে কঠিন সময় পার করছে। নতুন প্রত্যাশা নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চায় তারা। ফিফা আসিয়ান কাপকে দেশের ফুটবলে নতুন সকালের সূচনা হিসেবে দেখছেন মালয়েশিয়ার কোচ তান চেং হো। ২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা মাথায় রেখেই আসিয়ান কাপে ভালো পারফর্ম করতে মরিয়া ‘হরিমাউ মালায়ারা’।
ফিফাকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে কোচ তান চেং হো আসিয়ান কাপের লক্ষ্য, উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড়দের বিকাশ এবং চিরপ্রতিদ্বন্ধী সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ম্যাচ নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। সম্প্রতি বিশ্বকাপের এশিয়ান অঞ্চলের দ্বিতীয় রাউন্ডের বাছাইপর্ব থেকে ছিটকে যায় মালয়েশিয়া। খেলোয়াড় নিবন্ধনের জটিলতার কারণে পয়েন্ট কেটে নেওয়ায় এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বেও জায়গা হাতছাড়া হয় তাদের। তবে গত মাসে তরুণ দল নিয়ে হুন্দাই কাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে দলটি। আসিয়ান কাপে ডিভিশন ১-এর গ্রুপ ‘এ’-তে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া, প্রতিবেশী সিঙ্গাপুর এবং বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে মালয়েশিয়া। নতুন দল ও টুর্নামেন্টের উত্তেজনা নিয়ে তান চেং হো বলেন, ‘আমাদের মনে হচ্ছে আমরা সম্পূর্ণ নতুন এক দল ও নতুন ব্যবস্থাপনায় কাজ শুরু করেছি। আমরা আশা করছি আসিয়ান কাপ মালয়েশিয়ার ফুটবলে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং সমর্থকদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।’ অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশ্রণে স্কোয়াড মালয়েশিয়ার। কোচ বললেন, ‘হুন্দাই কাপে পবিত্রন গুনালান, ফারিস দানিশ ও উবায়দুল্লাহ শামসুলের মতো উদীয়মান তরুণরা দারুণ খেলেছে। আন্তর্জাতিক ফিফা উইন্ডোতে টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবার আমরা পূর্ণ শক্তির দল পাচ্ছি। অভিজ্ঞ ও প্রতিশ্রুতিশীল তরুণদের সমন্বয়ে সেরা কম্বিনেশন তৈরি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’