সংবাদ শিরোনাম

নাগোয়ায় বর্ণিল আয়োজনে পর্দা উঠল এশিয়ান গেমসের ২০তম আসরের

 প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৫ অপরাহ্ন   |   খেলাধুলা

নাগোয়ায় বর্ণিল আয়োজনে পর্দা উঠল এশিয়ান গেমসের ২০তম আসরের ছবি -সংগৃহীত

এশিয়া ডেস্ক

জাপানের নাগোয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে এশিয়ান গেমসের ২০তম আসর। শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় মিজুহো পার্ক অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, প্রযুক্তিনির্ভর প্রদর্শনী ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ‘আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস ২০২৬’।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাপানের সম্রাট নারুহিতো ও সম্রাজ্ঞী মাসাকোর পাশাপাশি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।


সন্ধ্যা ৬টা বাজতেই স্টেডিয়ামের আলো নিভে আসে। অন্ধকারাচ্ছন্ন গ্যালারিতে বিশাল পর্দায় ফুটে ওঠে আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসের লোগো। এরপর আবছা আলোর আবহে শিশু শিল্পীদের নৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। গান, নৃত্য, সুর ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে আয়োজকরা তুলে ধরেন নাগোয়ার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল ‘Harmonic Heartbeat’। এ ধারণার মাধ্যমে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ক্রীড়াবিদদের ভিন্নতা পেরিয়ে একই ছন্দে একত্রিত হওয়ার বার্তা তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশের মার্চ পাস্ট

আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হয় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মার্চ পাস্ট। বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তারা মার্চ পাস্টে অংশ নেন তৃতীয় অবস্থানে। জাতীয় পতাকা বহন করেন শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকি ও কারাতেকা হুমায়রা আক্তার অন্তরা।

বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল নাগোয়ায় অবস্থান করলেও ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচ থাকায় তারা উদ্বোধনী মার্চ পাস্টে অংশ নিতে পারেনি।

এক এক করে ৪৫টি দেশের ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তারা মার্চ পাস্টে অংশ নেন। এবারের আসরে অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার পতাকার অধীনে প্রথমবারের মতো একটি শরণার্থী দলও অংশগ্রহণ করছে।

প্রযুক্তিতে ফুটে উঠল নাগোয়ার ঐতিহ্য

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল জাপানের ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বিত উপস্থাপনা। বিশাল পর্দায় তুলে ধরা হয় আইচি ও নাগোয়া অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্থানীয় জীবনধারা।

স্টেডিয়ামের মাঝখানে প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয় জাপানের ঐতিহ্যবাহী একটি বাড়ির অবয়ব। সেটিকে ঘিরে নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনা দর্শকদের নজর কাড়ে। ভিন্নধর্মী উপস্থাপনায় দুটি গাড়ি থেকে শিশু শিল্পীদের মঞ্চে নিয়ে আসার দৃশ্যও ছিল অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ।

নৃত্য ও সংগীতের মাধ্যমে নাগোয়ার নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য আন্তর্জাতিক দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন জাপানি শিল্পীরা।

অতীতের আসর থেকে বর্তমান নাগোয়া

জাপানের ক্রীড়া ইতিহাসও উঠে আসে উদ্বোধনী আয়োজনে। ১৯৫৮ সালের টোকিও এশিয়ান গেমস, ১৯৯৪ সালের হিরোশিমা এশিয়ান গেমস এবং ২০২০ সালের টোকিও অলিম্পিকের স্মৃতিবিজড়িত উপাদানের পাশাপাশি বর্তমান আইচি-নাগোয়ার প্রতীকী উপস্থাপনা ছিল অনুষ্ঠানে।

বিভিন্ন স্থান থেকে সংগৃহীত পবিত্র শিখা একত্রিত করে মূল স্টেডিয়ামে প্রজ্বালন করা হয় এশিয়ান গেমসের শিখা। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় পদকের মহারণ।

প্রায় দুই ঘণ্টার আয়োজনের শেষদিকে ভায়োলিনের সুরে সমাপ্তি টানা হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের। বর্ণিল এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে ৩২ বছর পর জাপানের মাটিতে আবারও এশিয়ার সবচেয়ে বড় বহু-ক্রীড়া আসরের আবহ তৈরি হলো।

ক্রিকেট, ফুটবল ও বাস্কেটবলের মতো কয়েকটি ইভেন্ট ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদকের লড়াইয়ে নামছেন ৪৫ দেশের ১১ হাজারের বেশি ক্রীড়াবিদ।