এশিয়া কাপ আর্চারিতে বাংলাদেশের সোনালি সাফল্য, দ্বিতীয় স্বর্ণ রিকার্ভ পুরুষদের
দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনেও বাংলাদেশের জন্য সুখবর এসেছে আর্চারি থেকে। ইরাকের সুলাইমানিয়ায় এশিয়া কাপ স্টেজ-২ ও ওয়ার্ল্ড র্যাঙ্কিং টুর্নামেন্টে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে দ্বিতীয় স্বর্ণপদক জিতেছে বাংলাদেশের তীরন্দাজরা। রিকার্ভ পুরুষ দলগত ইভেন্টের ফাইনালে কাজাখস্তানকে ৬-২ সেট পয়েন্টে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করেন সাগর ইসলাম, আবদুর রহমান আলিফ ও আবদুল্লাহ আল মোহাম্মদ রাফি।
বৃহস্পতিবারের এই জয়ে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের পদকসংখ্যা আরও বাড়ে। এর আগে বুধবার কম্পাউন্ড নারী দলগত ইভেন্টে কাজাখস্তানকে ২৩০-২২০ স্কোরে হারিয়ে স্বর্ণপদক জিতেছিলেন বন্যা আক্তার, শ্রীপর্ণা বিশ্বাস ও কুলসুম আক্তার মনি। টানা দুই দিনের সাফল্যে বাংলাদেশের আর্চারিতে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
ফাইনালে সাগর-আলিফ-রাফিদের দাপট
রিকার্ভ পুরুষ দলগত ইভেন্টের ফাইনালে ওঠার পথেও প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য দেখান বাংলাদেশের তিন তীরন্দাজ। সেমিফাইনালে উজবেকিস্তানকে সরাসরি ৬-০ সেট পয়েন্টে হারিয়ে স্বর্ণের লড়াই নিশ্চিত করেন তাঁরা।
অন্যদিকে স্বাগতিক ইরাককে ৬-২ সেট পয়েন্টে পরাজিত করে ফাইনালে জায়গা করে নেয় কাজাখস্তান। তবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশের আর্চারদের সামনে টিকতে পারেনি দলটি। শেষ পর্যন্ত ৬-২ সেট পয়েন্টের জয় নিয়ে স্বর্ণপদক নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ।
নারী দলগত ইভেন্টে সোনার পদক
কম্পাউন্ড নারী দলগত ইভেন্টের ফাইনালে বাংলাদেশের তিন আর্চার শুরু থেকেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। বন্যা আক্তার, শ্রীপর্ণা বিশ্বাস ও কুলসুম আক্তার মনির সম্মিলিত পারফরম্যান্সে কাজাখস্তানকে ১০ পয়েন্টের ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ।
চারটি এন্ডে বাংলাদেশের স্কোর ছিল যথাক্রমে ৫৭, ৫৭, ৫৮ ও ৫৮। অন্যদিকে কাজাখস্তানের স্কোর ছিল ৫৫, ৫২, ৫৬ ও ৫৭। সব মিলিয়ে ২৩০-২২০ ব্যবধানে জয় পায় বাংলাদেশের দল।
রুপা ও ব্রোঞ্জেও বাংলাদেশের অর্জন
স্বর্ণপদকের পাশাপাশি কম্পাউন্ড বিভাগের অন্য কয়েকটি ইভেন্টেও পদক জিতেছেন বাংলাদেশের আর্চাররা।
কম্পাউন্ড পুরুষ দলগত ইভেন্টের ফাইনালে কাজাখস্তানের কাছে ২২৪-২৩০ স্কোরে হেরে রৌপ্যপদক পান হিমু বাছাড়, তরিকুল ইসলাম ও নেওয়াজ আহমেদ রাকিব। কম্পাউন্ড মিশ্র দলগত ইভেন্টেও কাজাখস্তানের কাছে ১৪২-১৫৩ স্কোরে পরাজিত হয়ে রুপা জেতে বাংলাদেশ। এ ইভেন্টে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বন্যা আক্তার ও নেওয়াজ আহমেদ রাকিব।
কম্পাউন্ড পুরুষ একক ইভেন্টে নেওয়াজ আহমেদ রাকিব ১৪৫-১৩৯ স্কোরে বাংলাদেশেরই তরিকুল ইসলামকে হারিয়ে ব্রোঞ্জপদক অর্জন করেন। অন্যদিকে কম্পাউন্ড নারী এককে কুলসুম আক্তার মনি ১৪৩-১৩৯ স্কোরে কাজাখস্তানের আয়াজান ঝাকসিলিককে পরাজিত করে ব্রোঞ্জ জেতেন।
ফাইনালে ১৫ বছরের সায়মা
বাংলাদেশের সাফল্যের তালিকায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন মাত্র ১৫ বছর বয়সী সায়মা সালাহ উদ্দিন। বিকেএসপির এই শিক্ষার্থী এশিয়া কাপের দ্বিতীয় ধাপে রিকার্ভ নারী একক ইভেন্টের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন।
বাছাইপর্বে ৬৩৫ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থান অর্জনের পর নকআউট পর্বে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখান সায়মা। প্রথমে পাকিস্তানের নিহাত নাহিদকে ৬-০ সেট পয়েন্টে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠেন তিনি। এরপর আজারবাইজানের লালা আবদুরাহমানোভাকেও একই ব্যবধানে পরাজিত করেন।
সেমিফাইনালে কাজাখস্তানের আলেক্সান্দ্রা জেমলিয়ানোভার মুখোমুখি হন বাংলাদেশের এই তরুণ তীরন্দাজ। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ে ৬-৪ সেট পয়েন্টে জয় তুলে নিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন তিনি। ফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ ইরানের একজন আর্চার।
সামনে আরও পদকের সুযোগ
এশিয়া কাপ স্টেজ-২ ও ওয়ার্ল্ড র্যাঙ্কিং টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের আর্চাররা একাধিক ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলগত ইভেন্টে স্বর্ণজয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ইভেন্টেও পদকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সায়মা সালাহ উদ্দিনের ফাইনালে ওঠা দেশের নারী আর্চারির জন্য উল্লেখযোগ্য অর্জন।
সুলাইমানিয়ায় বাংলাদেশের তীরন্দাজদের এই পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের আর্চারির অগ্রগতির পরিচয় দিচ্ছে। বাকি ইভেন্টগুলোতে আরও পদক জয়ের অপেক্ষায় রয়েছেন সমর্থকেরা।