নির্বাচনে হারার পর যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাভিও বলসোনারো, কেন ছাড়লেন ব্রাজিল
পাসপোর্ট জমা দেওয়ার আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ, অর্থপাচার তদন্ত ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর এই ছেলের দেশত্যাগ নিয়ে ব্রাজিলের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। আদালতের নির্দেশে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর তাঁর দেশত্যাগের ঘটনা সামনে আসে। ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশ (পিএফ) বিষয়টি তদন্ত করছে।
ব্রাজিলের সরকারি সংবাদ সংস্থা Agência Brasil এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর ফ্লাভিও তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে আর্জেন্টিনার সীমান্ত অতিক্রম করেন। পরে তাঁরা ব্যক্তিগত বিমানে ইকুয়েডরের গুয়ায়াকিল হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামির উদ্দেশে রওনা হন। পরদিন তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর খবর প্রকাশিত হয়।
কে এই ফ্লাভিও বলসোনারো?
ফ্লাভিও বলসোনারো ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর জ্যেষ্ঠ ছেলে। তিনি রাজনীতিবিদ এবং রিও ডি জেনেইরো অঙ্গরাজ্যের নির্বাচিত সিনেটর। বাবার রাজনৈতিক বলয়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে পরিচিত ফ্লাভিও ২০২৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হন।
নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় তিনি প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন। পরাজয়ের পর তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং বিরোধী রাজনীতিতে ভূমিকা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
কেন ব্রাজিল ছাড়লেন?
ফ্লাভিওর দেশত্যাগের পেছনে প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো তাঁর বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত এবং আদালতের নির্দেশ। ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরায়েসের নির্দেশে তাঁকে সাধারণ ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিতে এবং দেশত্যাগ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছিল। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হলেও তিনি তা করেননি বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশ জানিয়েছে, ফ্লাভিওর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অর্থপাচার ও বৈদেশিক মুদ্রা অবৈধভাবে স্থানান্তরের অভিযোগসংক্রান্ত তদন্ত চলছে। একটি তদন্তে আইনজীবী ও ব্যবসায়ী উইলের তোমাজের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁর বাবার জীবন নিয়ে নির্মিত Dark Horse চলচ্চিত্রের অর্থায়ন নিয়েও পৃথক তদন্ত রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। ফ্লাভিও ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তদন্তের অভিযোগকে আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
দেশত্যাগ নিয়ে তদন্ত
ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশ জানিয়েছে, ফ্লাভিওর দেশত্যাগের পরিস্থিতি তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি আর্জেন্টিনার সীমান্ত অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা করেন। তবে ব্রাজিলের নিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র দিয়ে তাঁর দেশত্যাগের কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
দেশত্যাগের আগে ফ্লাভিও বলেছিলেন, তিনি ব্রাজিল ছাড়বেন না এবং দেশে থেকেই লুলা সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী রাজনৈতিক কার্যক্রম সংগঠিত করবেন। কিন্তু পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়।
রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন পথে?
ফ্লাভিওর যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার ঘটনা ব্রাজিলের রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। তিনি বিদেশে অবস্থান করে বিরোধী রাজনীতি পরিচালনা করবেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত তথ্য এখনো নেই।
এদিকে তাঁর দেশত্যাগের সঙ্গে চলমান তদন্তের সম্পর্ক এবং আদালতের নির্দেশ অমান্যের সম্ভাব্য আইনি পরিণতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন পর্যবেক্ষকেরা।
সূত্র: Agência Brasil, Reuters, UOL ও CNN Brasil-এর ২৭–২৮ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদন।