চীন-ইউরোপ বাণিজ্য উত্তেজনা চরমে, নতুন সংকটের শঙ্কা

অনলাইন ডেক্স
১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন

আন্তর্জাতিক

চীন-ইউরোপ বাণিজ্য উত্তেজনা চরমে, নতুন সংকটের শঙ্কা ছবি-সংগৃহীত

রাষ্ট্রীয় ভর্তুকির কারণে উৎপাদন সক্ষমতার মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি এবং তীব্র অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতার জেরে চীন ও ইউরোপের সম্পর্ক এখন এক জটিল সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ইউরোপীয় দেশগুলো বাজারে প্রবেশের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে বেইজিং স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেছে যে এ ধরনের রক্ষণশীল পদক্ষেপ বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিকে নতুন আরেকটি 'চায়না শক' হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন জানিয়েছেন যে ১৯৯০-এর দশকের ইস্পাতশিল্পের সংকট যেভাবে পশ্চিমা অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল, সম্ভাব্য এই সংকট তারই পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে। ক্রমবর্ধমান কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা নিরসনে বেইজিংয়ে দ্বিতীয় দফার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেছেন ইউরোপীয় ও চীনা বাণিজ্য কর্মকর্তারা। এসব বৈঠকে বাণিজ্যের ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে।

চীন থেকে ইউরোপে আমদানিকৃত পণ্যের বিশাল অংশজুড়ে রয়েছে বিভিন্ন শিল্পজাত পণ্য, যার মধ্যে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও কারখানার যন্ত্রপাতির আধিক্য সবচেয়ে বেশি। গত এক দশকে দুই পক্ষের মধ্যকার বাণিজ্য ঘাটতি দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার ৯৮০ কোটি ডলারে। গত বছর চীন থেকে ইইউর আমদানি বাড়লেও বিপরীতে চীনে ইউরোপীয় রপ্তানি কমেছে, যা দুই অঞ্চলের মধ্যকার বাণিজ্যিক টানাপোড়েনকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের শিল্প উৎপাদন শক্তিশালী করতে প্রণয়ন করা হচ্ছে 'ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাকসেলারেটর অ্যাক্ট' বা আইএএ। প্রস্তাবিত এই আইনের মাধ্যমে সরকারি ক্রয়ে কঠোর বিধি আরোপ এবং স্থানীয় উৎপাদকদের প্রণোদনা দেওয়ার কথা বলা হলেও চীন দাবি করছে যে এটি চীনা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিনিয়োগের বাধা ও পদ্ধতিগত বৈষম্য তৈরি করবে। ফ্রান্স ও জার্মানির নেতারাও বাজারের প্রবেশ}^{-}$ধিকার স্থগিত করার মতো কঠোর বাণিজ্য সুরক্ষাব্যবস্থা চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন।

ইউরোপের সম্ভাব্য এই কঠোর পদক্ষেপের জবাবে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হুশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে যে এমন উদ্যোগ অন্যায্য প্রতিযোগিতা তৈরি করবে এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিধি লঙ্ঘন করবে। বেইজিংয়ের মতে, বাণিজ্যকে রাজনীতিকরণ ও জাতীয় নিরাপত্তাকে হাতিয়ার করলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা আরও বেশি বিঘ্নিত হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন এসব বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় চীন ও ইউরোপের মধ্যকার এই বিরোধ সামনের দিনে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।